Columbus | ১৭ আগস্ট, ২০২৬ | ২ ভাদ্র, ১৪৩৩
সর্বশেষ খবর
ব্রেন টিউমারের চিকিৎসায় ইলিয়াস কাঞ্চন, দেড় বছর পর দেশে ফিরে আবার লন্ডনে ইনফান্তিনোর চতুর্থ মেয়াদের পথে বাধা, প্রার্থিতা ঠেকাতে ফিফার কাছে ফেয়ারস্কয়ারের চিঠি দুদকে নতুন নেতৃত্ব: চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান খায়রুল হকের দেশত্যাগে আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক ‘নতজানু পররাষ্ট্রনীতির অবসান, জাতীয় স্বার্থই এখন অগ্রাধিকার’: মাহদী আমিন চীনা বাজারে নতুন কৌশল, আলিবাবার সহায়তায় নিজস্ব এআই মডেল বানাচ্ছে অ্যাপল ইরান ইস্যু ও কিমের সঙ্গে সম্পর্ক: দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে মহড়া কমালেন ট্রাম্প রাজধানীতে কাল থেকে পিংক বাস, চালক-কন্ডাক্টরও নারী সেলেনা গোমেজের বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের মামলা বিশ্ববাজারে ফের চড়ছে স্বর্ণের দাম ঢাবিতে হল প্রাধ্যক্ষকে উদ্ধারে সংঘর্ষ, ভিপি\-জিএসসহ আহত অনেকে ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ, পেনসিলভেনিয়ায় শোক ও শ্রদ্ধার আয়োজন আনন্দ-উচ্ছ্বাসে সম্পন্ন হলো গ্রেটার ময়মনসিংহ অ্যাসোসিয়েশন অব পেনসিলভানিয়ার বার্ষিক বনভোজন মহাকাশে ধান চাষে চীনের যুগান্তকারী সাফল্য, খুলছে চাঁদ-মঙ্গলে কৃষির দ্বার খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিনে মালয়েশিয়ায় বিএনপির দোয়া ও স্মরণসভা
হোম খেলার মাঠ ইনফান্তিনোর চতুর্থ মেয়াদের পথে বাধা, প্রার্থিতা ঠেকাতে ফিফার কাছে ফেয়ারস্কয়ারের চিঠি

ইনফান্তিনোর চতুর্থ মেয়াদের পথে বাধা, প্রার্থিতা ঠেকাতে ফিফার কাছে ফেয়ারস্কয়ারের চিঠি

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৪:১৩ পিএম, ১৭ আগস্ট, ২০২৬ 5
ইনফান্তিনোর চতুর্থ মেয়াদের পথে বাধা, প্রার্থিতা ঠেকাতে ফিফার কাছে ফেয়ারস্কয়ারের চিঠি

স্পোর্টস ডেস্ক ||


ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সম্ভাব্য চতুর্থ মেয়াদ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সুশাসন ও মানবাধিকারবিষয়ক অলাভজনক সংস্থা ফেয়ারস্কয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফার ‘গভর্নেন্স, অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স কমিটি’র কাছে চিঠি দিয়ে দাবি করেছে, ২০২৭ সালের নির্বাচনে ইনফান্তিনোকে আর প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। সংস্থাটির যুক্তি, ফিফার নিজস্ব বিধিতে সভাপতির সর্বোচ্চ তিন মেয়াদের সীমা রয়েছে এবং ইনফান্তিনো ইতোমধ্যে সেই সীমা পূরণ করেছেন।


কেন ইনফান্তিনোর প্রার্থিতা নিয়ে প্রশ্ন?


জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ২০১৬ সালে প্রথমবার ফিফার সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর তিনি পুনর্নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ফিফার বিধি অনুযায়ী একজন সভাপতি সর্বোচ্চ তিন মেয়াদ দায়িত্ব পালন করতে পারেন।


তবে ইনফান্তিনোর প্রথম মেয়াদ নিয়ে রয়েছে ভিন্ন ব্যাখ্যা। ২০১৬ সালে তৎকালীন সভাপতি সেপ ব্ল্যাটারের পদত্যাগের পর ইনফান্তিনো দায়িত্ব নেন। ইনফান্তিনোর পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, ওই সময় তিনি মূলত ব্ল্যাটারের অসমাপ্ত মেয়াদ পূরণ করেছিলেন। তাই ২০১৬-২০১৯ সময়কালকে তাঁর পূর্ণ মেয়াদ হিসেবে গণনা করা উচিত নয়।


২০২২ সালে ফিফার সংশ্লিষ্ট কমিটি এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করে। ফলে ইনফান্তিনোর প্রথম সময়কালকে তিন মেয়াদের সীমার মধ্যে গণনা করা হয়নি। এ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই তাঁর ২০২৭ সালের নির্বাচনে আবার প্রার্থী হওয়ার পথ খোলা রয়েছে।


কিন্তু ফেয়ারস্কয়ার এই ব্যাখ্যার বৈধতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে।


ফেয়ারস্কয়ারের অভিযোগ কী?


ফেয়ারস্কয়ারের মতে, ফিফার বিধিতে এমন কোনো ব্যতিক্রম নেই যার মাধ্যমে কোনো সভাপতির দায়িত্বের প্রথম সময়কালকে বাদ দেওয়া যায়। মেয়াদ কতটা দীর্ঘ ছিল কিংবা কোন কংগ্রেসে নির্বাচন হয়েছিল—এসব বিবেচনা করে মেয়াদ গণনা থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ বিধিতে নেই বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।


সংস্থাটির পরিচালক নিকোলাস ম্যাকগিহান অভিযোগ করেছেন, তিন মেয়াদের সীমা মূলত ফিফা সভাপতির ক্ষমতার ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। তাঁর মতে, প্রথম মেয়াদকে বাদ দিয়ে চতুর্থ মেয়াদের সুযোগ তৈরি করা হলে এই নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়বে।


ফেয়ারস্কয়ার আরও বলেছে, ২০২২ সালে ইনফান্তিনোর প্রথম মেয়াদ গণনা না করার সিদ্ধান্তের পক্ষে কোনো বিস্তারিত আইনি ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। সিদ্ধান্তটি কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের মাত্র কয়েক দিন আগে জানানো হয়েছিল—এ নিয়েও সংস্থাটি স্বচ্ছতার প্রশ্ন তুলেছে।


২০২৭ সালের নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা


ফিফার পরবর্তী সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ১৮ মার্চ ২০২৭, মরক্কোয়। ফলে নির্বাচনের সময় যত এগিয়ে আসছে, ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্কও তত জোরালো হচ্ছে।


ইনফান্তিনোর সম্ভাব্য পুনর্নির্বাচনের বিরোধিতা শুধু ফেয়ারস্কয়ারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে ফিফার নেতৃত্ব, শাসনব্যবস্থা এবং বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ফুটবল প্রশাসকদের মধ্যে অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার পক্ষ থেকেও ফিফার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও সুশাসন নিয়ে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।


ফিফার বাণিজ্যিক পরিকল্পনাও বিতর্কে


ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের আরেকটি বড় কারণ ফিফার প্রস্তাবিত বাণিজ্যিক উদ্যোগ। ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি নতুন কাঠামো তৈরির পরিকল্পনা এবং এর বাণিজ্যিক অধিকার নিয়ে ফিফার উদ্যোগ বিভিন্ন ফুটবল ফেডারেশনের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এ ধরনের সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ঘাটতি রয়েছে।


এই পরিস্থিতিতে ইনফান্তিনোর সম্ভাব্য চতুর্থ মেয়াদের প্রশ্নটি শুধু ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নয়, বরং ফিফার শাসনব্যবস্থা ও ক্ষমতার ভারসাম্যের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে পড়েছে।


সামনে কী হতে পারে?


এখন মূল নজর ফিফার ‘গভর্নেন্স, অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স কমিটি’র দিকে। ফেয়ারস্কয়ারের অভিযোগের পর কমিটি ২০২২ সালের সিদ্ধান্ত এবং ফিফার মেয়াদসংক্রান্ত বিধিগুলো নতুন করে পর্যালোচনা করবে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।


যদি কমিটি ফেয়ারস্কয়ারের যুক্তি গ্রহণ করে এবং ইনফান্তিনোর প্রথম মেয়াদকে গণনায় অন্তর্ভুক্ত করে, তাহলে ২০২৭ সালের নির্বাচনে তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে বড় ধরনের আইনি ও সাংগঠনিক বাধা তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে আগের ব্যাখ্যাই বহাল থাকলে ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের পথ খোলা থাকবে।


অর্থাৎ, ২০২৭ সালের ফিফা সভাপতি নির্বাচন এখনই শুধু ভোটের লড়াই নয়—এর আগে শুরু হয়ে গেছে বিধি, ক্ষমতার সীমা, স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক পরীক্ষা।


ফেয়ারস্কয়ারের এই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত ইনফান্তিনোর প্রার্থিতা আটকে দিতে পারে কি না, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত প্রশ্ন।


-নিউইয়র্ক ভয়েস বাংলা