অনলাইন | ১৮ আগস্ট, ২০২৬ | ৩ ভাদ্র, ১৪৩৩
সর্বশেষ খবর
তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ভারতের ইতিবাচক বার্তা, সর্বোচ্চ সম্মানের আশ্বাস দিলেন দীনেশ ত্রিবেদী ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ফের কূটনৈতিক অচলাবস্থা, আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করলেন ট্রাম্প সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ আর নেই ঘুমের ব্যাঘাত, ১৪ দিনের নবজাতককে ড্রামের পানিতে ডুবিয়ে হত্যার অভিযোগ; মা আটক প্রথম দিনেই পিংক বাসে বলাকা বাসের ধাক্কা, জরিমানা মুক্তির আগেই বিশ্ববাজারে ঝড় তুলছে রণবীরের ‘রামায়ণ’, চীনে ট্রেলার পেরোল ১০ লাখ ভিউ এয়ারটেলের ১৬ বছরের অধ্যায়ের ইতি, নতুন নাম ‘সার্কেল’ মুখের দুর্গন্ধের কারণ কী? অবহেলা নয়, জেনে নিন সম্ভাব্য কারণ ও প্রতিকারের উপায় দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের স্কোয়াড ঘোষণা, নেতৃত্বে মাহিদুল আনকন তামিলনাড়ুর কৃষকদের বড় সুখবর, ৭৫ হাজার রুপি পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের ঘোষণা থালাপতি বিজয়ের ১৫ বছর পর ফিরছে ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’? সিক্যুয়েল নিয়ে বড় আপডেট জোয়া আখতারের বিদ্যুতের বেহাল দশা: ৩৩ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার দেশেও কেন অন্ধকার? শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল: হাজার হাজার কোটি টাকার অনিয়ম, জবাবদিহি কোথায়? আজিজকে দেশে ফেরাতে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ চায় ট্রাইব্যুনাল প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে জাতীয় সংসদের দেয়ালে কালেমা তাইয়্যেবা
হোম জাতীয় তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ভারতের ইতিবাচক বার্তা, সর্বোচ্চ সম্মানের আশ্বাস দিলেন দীনেশ ত্রিবেদী

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ভারতের ইতিবাচক বার্তা, সর্বোচ্চ সম্মানের আশ্বাস দিলেন দীনেশ ত্রিবেদী

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৫:০২ পিএম, ১৮ আগস্ট, ২০২৬ 9
তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ভারতের ইতিবাচক বার্তা, সর্বোচ্চ সম্মানের আশ্বাস দিলেন দীনেশ ত্রিবেদী

ঢাকা প্রতিনিধি ||


বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে দেখছে নয়াদিল্লি। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গেলে তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে স্মরণীয় অভ্যর্থনা জানানো হবে। তাঁর মতে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য এমন অভ্যর্থনাই প্রাপ্য।


মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ভারতের ইতিবাচক অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে সরাসরি রাজনৈতিক যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ঢাকা ও নয়াদিল্লি দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন কাটিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এর আগে জুলাই মাসেও ত্রিবেদী বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করলে দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় গঠনমূলকভাবে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।


সফর ঘিরে দিল্লির আগ্রহ


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতীয় হাইকমিশনার এর আগে স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, বাংলাদেশ সরকারের প্রধানকে ভারতে স্বাগত জানাতে ভারত আগ্রহী এবং সফরটি দ্রুত অনুষ্ঠিত হবে বলে তারা আশা করছে। তবে সফরের সময়সূচি নির্ধারণের বিষয়টি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এই সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফলে সম্ভাব্য ভারত সফরকে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতাও বেড়েছে।


সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের প্রত্যাশা


সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নানা ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট, সীমান্ত, পানি, বাণিজ্য, ভিসা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ বিভিন্ন ইস্যু আলোচনায় এসেছে।


গত ১০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এর পরদিনই নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ত্রিবেদী। এসব বৈঠককে সম্ভাব্য শীর্ষ পর্যায়ের যোগাযোগের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। একই সময়ে ঢাকা শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টিও ভারতের সঙ্গে আলোচনায় রাখছে।


ত্রিবেদীর আশাবাদ


দীনেশ ত্রিবেদী এর আগেও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদী বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে এমন কোনো সমস্যা নেই, যা পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয়। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের পর সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় আরও গঠনমূলকভাবে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।


ত্রিবেদীর এই অবস্থান থেকে ইঙ্গিত মিলছে, নয়াদিল্লি বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন করে সক্রিয় করতে আগ্রহী। বিশেষ করে দুই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সরাসরি যোগাযোগকে সামনে রেখে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা করছে ভারত।


সফরের গুরুত্ব কোথায়


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর কেবল একটি আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সফর নয়—দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সফরটি হলে আলোচনায় আসতে পারে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, পানি বণ্টন, যোগাযোগ, জ্বালানি সহযোগিতা, ভিসা ব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো বিষয়। পাশাপাশি রাজনৈতিক আস্থা পুনর্গঠন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে নতুন সমঝোতার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।


ভারতের হাইকমিশনারের ‘সর্বোচ্চ সম্মান’ ও ‘স্মরণীয় অভ্যর্থনা’র বার্তা তাই কূটনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। এর মাধ্যমে নয়াদিল্লি বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনার জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির বার্তাও দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।


সামনে কী


এখন মূল অপেক্ষা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক সময়সূচি নিয়ে। ভারতীয় পক্ষ একাধিকবার সফরের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করলেও চূড়ান্ত তারিখ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।


তবে দীনেশ ত্রিবেদীর সর্বশেষ বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গেলে নয়াদিল্লি তাঁকে বিশেষ মর্যাদা দিতে প্রস্তুত। সেই সফর বাস্তবায়িত হলে তা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে—এমন প্রত্যাশাই এখন জোরালো হচ্ছে।


-নিউ ইয়র্ক ভয়েস বাংলা