দৌলতপুরে মাদকের টাকা নিয়ে বিরোধ: ভাইয়ের আঘাতে ভাইয়ের মৃত্যুর অভিযোগ।
তানভীর আজাদ
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি॥
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পারিবারিক বিরোধ ও মাদকের টাকা চাওনাকে কেন্দ্র করে রাসেল হোসেন (৩৫) নামের এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের তাজপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
নিহত রাসেল হোসেন তাজপুর গ্রামের আহাদ আলীর ছেলে। এ ঘটনার সঙ্গে তার ছোট ভাই ইমরান হোসেন রাজু (২৭) জড়িত বলে স্থানীয়দের একটি পক্ষ অভিযোগ তুলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদক সেবনের জন্য টাকার দাবিকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিকেলে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ছোট ভাই ইমরান হাসুয়া দিয়ে বড় ভাই রাসেলকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে রাসেলের পা ও পেটে মারাত্মক জখম হয়।
পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই রাসেলের মাদকাসক্তিকে কেন্দ্র করে ওই পরিবারে অশান্তি বিরাজ করছিল।
এদিকে ঘটনার বিষয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন নিহতের মা রাশেদা খাতুন। ছোট ছেলে ইমরানের বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, বাঁশ কাটার সময় হাত থেকে হাসুয়া ছিটকে গিয়ে রাসেলের পায়ে লাগে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও গুরুতর আহত হওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। তিনি আরও জানান, রাসেল মাদকাসক্ত ছিলেন এবং দুর্ঘটনার পরপরই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুরো বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দেখছি। তদন্ত শেষ হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং এ ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
একই পরিবারের দুই ভাইকে কেন্দ্র করে আসা পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে তাজপুর গ্রামে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে এখন পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের দিকেই তাকিয়ে আছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।