বিমানবন্দরে তর্ক-বিতর্ক ও হুমকির অভিযোগ, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা
ঢাকা প্রতিনিধি
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে তর্ক-বিতর্ক, উত্তেজনা ও হুমকির অভিযোগের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করা এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগে শুক্রবার বিমানবন্দর থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে মামলাটি করেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় দণ্ডবিধির ১৮৬, ১৮৯, ২৯৪, ৩২৩, ৩৫২, ৩৫৩, ৫০৪ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। বিমানবন্দর থানার ওসি কামরুল হাসান তালুকদার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে মদিনা থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটের যাত্রীরা ঢাকায় পৌঁছান। যাত্রীদের ব্যাপক চাপের কারণে ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলির সংকট দেখা দেয়। ফলে লাগেজ সংগ্রহে বিলম্ব হলে সেখানে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে যান। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করার সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে আক্রমণাত্মক আচরণ করেন।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, আখতারুজ্জামান নির্বাহী পরিচালককে গালিগালাজ করেন এবং তাকে মারধর ও ঘাড় ধরে বিমানবন্দর থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন। ঘটনাটি নিয়ে তৈরি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।
মামলার বর্ণনা অনুযায়ী, পরে আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা কয়েকজন প্রটোকল সহকারী বিমানবন্দরের সংরক্ষিত বা কেপিআই এলাকায় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাদের ভিডিও ধারণে নিষেধ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, এ সময় আখতারুজ্জামান ওই নিরাপত্তা কর্মকর্তার সঙ্গে অশোভন আচরণ ও গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। একই ঘটনায় যাত্রীদের ট্রলিতে থাকা জমজমের পানির বোতল ফেলে ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন প্রতিনিধির সঙ্গেও মারমুখী আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ঘটনার পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। একই ফ্লাইটের লাগেজ সরবরাহে বিলম্বের ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, ঘটনাটির সূত্রপাত হয়েছিল লাগেজ ও ট্রলি ব্যবস্থাপনা নিয়ে যাত্রীদের ভোগান্তি থেকে; পরে সেই পরিস্থিতিই তর্ক-বিতর্ক ও অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের ঘটনায় রূপ নেয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অভিযোগগুলো তদন্তের অংশ হিসেবে বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যসহ অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে। অভিযোগগুলো তদন্তে প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে মামলায় যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোকে এখনই আদালতে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে।
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান এর আগে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেওয়ার তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। বিমানবন্দরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার পর এখন তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিও এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উঠে আসে, সেদিকেই নজর থাকবে।