ব্রেন টিউমারের চিকিৎসায় ইলিয়াস কাঞ্চন, দেড় বছর পর দেশে ফিরে আবার লন্ডনে
বিনোদন ডেস্ক ||
ঢাকাই চলচ্চিত্রের বরেণ্য অভিনেতা ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন দীর্ঘদিন ধরে ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা নিচ্ছেন। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চিকিৎসাধীন থাকার পর চলতি বছরের ৩ আগস্ট তিনি সাময়িকভাবে দেশে ফেরেন। প্রায় ১০ দিন পরিবারের সদস্য, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে ১২ আগস্ট আবার চিকিৎসার জন্য লন্ডনে ফিরে যান তিনি।
দীর্ঘ চিকিৎসার পর দেশে ফেরা
২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ব্রেন টিউমার শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য লন্ডনে পাড়ি জমান ইলিয়াস কাঞ্চন। ঢাকায় প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তাঁর মস্তিষ্কের গভীরে, গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ুর সংযোগস্থলের কাছাকাছি টিউমার শনাক্ত করেন। ওই স্থানে অস্ত্রোপচার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে যুক্তরাজ্যে নেওয়া হয়।
লন্ডনে কয়েক মাস পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ২০২৫ সালের আগস্টে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা টিউমারের বড় একটি অংশ অপসারণ করতে সক্ষম হলেও পুরোপুরি অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। পুরো টিউমার সরাতে গেলে তাঁর কথা বলা, চলাফেরা কিংবা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক সক্ষমতার ওপর মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হতে পারত বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। পরবর্তী পরীক্ষায় টিউমারটি ক্যানসারাস বলেও জানা যায়।
কেমোথেরাপি ও দীর্ঘ চিকিৎসা
অস্ত্রোপচারের পর শুরু হয় ইলিয়াস কাঞ্চনের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা। পারিবারিক সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক পর্যায়ে তিনি ১২ সপ্তাহ ধরে সপ্তাহে পাঁচ দিন করে কেমোথেরাপি নিয়েছেন। এ সময়ে ৬০টির বেশি কেমোথেরাপি সেশন হয়েছে। এরপর তিনি ওরাল থেরাপির আরও দুই ধাপ সম্পন্ন করেন। সব মিলিয়ে তিন ধাপে তাঁর প্রায় ১০০টি কেমোথেরাপি সেশন হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
দীর্ঘ চিকিৎসার তৃতীয় ধাপ শেষ হওয়ার পর কিছুদিনের জন্য দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এই অভিনেতা। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং দীর্ঘদিন পর নিজের দেশ ও প্রিয়জনদের কাছে থাকার সুযোগ পেতেই তাঁর এই সাময়িক দেশে ফেরা।
দেশে ফিরে ব্যস্ত সময় কাটান
৩ আগস্ট দেশে ফেরার পর ইলিয়াস কাঞ্চনকে ঘিরে ভক্ত, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। প্রায় দেড় বছর বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকার পর দেশে ফিরে তিনি পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের সঙ্গে সময় কাটান।
এ সময় তিনি ‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং সংগঠনটির কাকরাইল কার্যালয়েও যান। বাসায় তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসা সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গেও আড্ডা দেন তিনি। ১১ আগস্ট কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার আশুতিয়াপাড়ায় নিজের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি পূর্বপুরুষদের কবর জিয়ারত করেন।
আবারও লন্ডনে চিকিৎসার জন্য
দেশে প্রায় ১০ দিন অবস্থানের পর ১২ আগস্ট ইলিয়াস কাঞ্চন আবার লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চিকিৎসার পরবর্তী ধাপ সম্পন্ন করতেই তাঁর এই ফিরে যাওয়া।
এর আগে দেশে ফেরার সময় তাঁর ছেলে মিরাজুল মঈন জয় জানিয়েছিলেন, চিকিৎসায় কিছুটা ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে এবং টিউমার উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট হয়েছে—যা চিকিৎসার ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক খবর। তবে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য আরও চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
শারীরিক অবস্থা নিয়ে আশার খবর
ইলিয়াস কাঞ্চনের চিকিৎসা নিয়ে সর্বশেষ বিভিন্ন প্রতিবেদনে কিছুটা আশার কথা উঠে এসেছে। তাঁর পারিবারিক চিকিৎসক রুবাইয়াত রহমান জানিয়েছেন, বর্তমানে তাঁর দৈনন্দিন জীবনযাপন অনেকটাই স্বাভাবিক। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, ইলিয়াস কাঞ্চনের স্মৃতিশক্তি নিয়েও উদ্বেগের কারণ নেই।
চিকিৎসকেরা আপাতত নতুন করে কোনো আক্রমণাত্মক চিকিৎসা শুরু করার পরিবর্তে তাঁর বর্তমান চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। রোগের অবনতি না হলে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
ভক্তদের কাছে দোয়া চেয়েছে পরিবার
ইলিয়াস কাঞ্চনের অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তাঁর ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের এই চিকিৎসাযাত্রায় পরিবারও বারবার তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা আন্দোলনের সঙ্গে ইলিয়াস কাঞ্চনের দীর্ঘ সম্পৃক্ততা রয়েছে। অসুস্থতার মধ্যেও দেশে ফিরে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর কার্যক্রমে অংশ নেওয়া তাঁর সেই দায়িত্ববোধেরই প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন তাঁর সহকর্মীরা।
দীর্ঘ চিকিৎসার পর দেশে ফেরার আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী না হলেও আবার লন্ডনে চিকিৎসার জন্য ফিরে গেছেন এই বরেণ্য অভিনেতা। এখন তাঁর চিকিৎসার পরবর্তী ধাপ, নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং টিউমারের অবস্থার ওপরই নির্ভর করছে পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা। দেশ-বিদেশের অগণিত ভক্ত তাঁর দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতার অপেক্ষায় রয়েছেন।
-নিউইয়র্ক ভয়েস বাংলা