আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ভার্চুয়াল সভা: ৯ দফা দাবি ও সাংগঠনিক নির্দেশনা
নিজস্ব প্রতিনিধি॥
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভা শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সভায় দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি, দলের সাংগঠনিক অবস্থা এবং রাজনৈতিক কর্মকৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।
আওয়ামী লীগের প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শেখ হাসিনা বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে দেশের বাস্তব পরিস্থিতি জানতে তিনি দলের ৮৩টি জেলা শাখা ও ১৬০টি নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। তাঁর দাবি, দেশের বিভিন্ন খাতের পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে এবং এ অবস্থায় জনগণের পাশে থেকে দলকে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় থাকতে হবে।
তিনি সাংগঠনিক শূন্যতা পূরণে নির্যাতনের শিকার নেতাকর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে গত প্রায় দুই বছরে নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ ও তা জনসমক্ষে তুলে ধরার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তাঁর বক্তব্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মামলা ও গ্রেপ্তার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
সভায় আওয়ামী লীগ নেতারা সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় নিয়ে আপত্তি জানান এবং ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম ও রায় বাতিলের দাবি করেন। ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেয়। অন্যদিকে শেখ হাসিনাকে ২০২৫ সালের নভেম্বরে পৃথক মামলায় অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
সভায় আলোচনা শেষে নয়টি দাবি ও প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণের কথা জানায় আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে রয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সরবরাহ নিশ্চিত করা, বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থান, বন্ধ শিল্প-কারখানা চালু, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি, কথিত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
এ ছাড়া শেখ হাসিনাসহ দলের নেতাদের বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় ও ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম বাতিল এবং নিরপরাধ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তির দাবিও জানানো হয়।