বাংলাদেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার, একদিনে আরও ১,৩১৪ আক্রান্ত ও ৪ মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিনিধি ||
বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ১ হাজার ৩১৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মারা গেছেন আরও চারজন। এ নিয়ে চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার ৯০৪ জনে। মোট মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছেছে ১২১ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই হিসাব পাওয়া গেছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৫৫৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, যা চলতি বছরের এক দিনে সর্বোচ্চ ভর্তি ছিল। একই সময়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছিল।
বিভিন্ন এলাকায় বাড়ছে রোগীর চাপ
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ১৫৩ জন বরিশাল বিভাগে, ১৯৮ জন চট্টগ্রাম বিভাগে, ২২৫ জন ঢাকা বিভাগে, ১৪৩ জন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং ১৩৯ জন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ভর্তি হয়েছেন।
এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ২৩৫ জন, ময়মনসিংহে ৮১ জন, রাজশাহীতে ৯৯ জন, রংপুরে ৩৬ জন এবং সিলেট বিভাগে পাঁচজন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ৪৩ হাজার ৯০৪ জন। এর মধ্যে ১২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সেপ্টেম্বরেই বাড়ছে উদ্বেগ
ডেঙ্গুর সংক্রমণ সেপ্টেম্বর মাসে আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এরই মধ্যে চলতি মাসের প্রথম কয়েক দিনেই মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে চলতি মাসে ২০ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এডিস মশার বিস্তার, জমে থাকা পানি এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে। রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা ও গ্রামাঞ্চলেও ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালগুলোতেও বাড়ছে চাপ
ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ায় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা ও শয্যার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আসা রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবার ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে।
চিকিৎসকেরা বলছেন, ডেঙ্গুতে জ্বর কমে যাওয়ার পরও রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে পারে। পেটব্যথা, মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত দুর্বলতা, রক্তপাত বা অন্য কোনো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব বলছে, বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে সেপ্টেম্বরের সংক্রমণ ও মৃত্যুর প্রবণতা আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।