ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, আনুষ্ঠানিক নির্মাণযাত্রা শুরু
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর উত্তরাঞ্চলের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আনুষ্ঠানিকভাবে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর রাষ্ট্রপতি মোনাজাতে অংশ নেন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
৮৬ একর জমিতে গড়ে উঠবে বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় ৮৬ একর জমির ওপর নির্মাণ করা হবে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কেবল উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান নয়; এটি জ্ঞান, গবেষণা, উদ্ভাবন ও মানবসম্পদ উন্নয়নের কেন্দ্র হওয়া উচিত।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় উত্তরাঞ্চলে আধুনিক ও মানসম্মত উচ্চশিক্ষার নতুন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে এবং দক্ষ, যোগ্য ও মানবিক নাগরিক তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।
রাষ্ট্রপতি সংশ্লিষ্টদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার পাশাপাশি কাজের মান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
২০২৭ সালে একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ ইসরাফিল শাহীন জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম ২০২৭ সালে শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। প্রাথমিকভাবে ঠাকুরগাঁও শহরের একটি অস্থায়ী ক্যাম্পাসে ছয়টি বিভাগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থাৎ, স্থায়ী ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অস্থায়ী অবকাঠামো ব্যবহার করে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতিও চলছে।
আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠার ভিত্তি ২০২৩ সালের আইনে
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৩’ প্রণীত হয়। আইনে ঠাকুরগাঁও জেলায় ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিধান রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার আওতায় বিজ্ঞান, কলা, মানবিক, সমাজবিজ্ঞান, আইন, ব্যবসায় প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরির কথা আইনে উল্লেখ রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে ঠাকুরগাঁও ও আশপাশের জেলার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জেলায় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে সেই দাবির বাস্তবায়ন আরও দৃশ্যমান হলো।
উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ার প্রত্যাশা
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় চালু হলে শুধু ঠাকুরগাঁও নয়, পার্শ্ববর্তী জেলার শিক্ষার্থীরাও স্থানীয়ভাবে উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগ পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি গবেষণা, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটি ভূমিকা রাখতে পারে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফারহাদ হোসেন আজাদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ ইসরাফিলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।