অনলাইন, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
সরকারি চাকরির নিয়োগে বাড়ছে ভাইভার নম্বর, কমছে লিখিত পরীক্ষার পাস নম্বর মহাকাশ ও পৃথিবীবিজ্ঞানে নতুন গবেষণার গতি আজ এজবাস্টনে ইংল্যান্ড-পাকিস্তান সিরিজের শেষ টেস্ট জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ২০৩০ সালের মধ্যে সংকটমুক্তির লক্ষ্য সরকারের মার্কিন শেয়ারবাজারে পতন, তেলের দাম ছয় সপ্তাহের সর্বোচ্চে কানাডার পাল্টা শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনা বাড়ল নভেম্বর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরুর প্রস্তুতি, থাকবে ড্রোন ও বডি ক্যামেরা হাসিনার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে শেখ সেলিম সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম আমদানিতে ৬ মাসের শুল্ক-কর ছাড় কিয়েভে ফের বড় রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৫ ২০২৬ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফরম পূরণে পুনঃসংশোধিত বিজ্ঞপ্তি কুমিল্লায় পানিতে ডুবে জমজ শিশুর মৃত্যু কুমিল্লায় ফসলি জমিতে পুঁতে রাখা নারীর মরদেহ উদ্ধার ২৫ বছর ধরে দখল, কুমিল্লা সড়ক বিভাগের তিন শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ বাঁধনের ওপর হামলা ঘিরে সংসদে কঠোর বার্তা, ‘জুলাই যোদ্ধার ওপর আঘাত মানে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত’
হোম ক্যারিয়ার সরকারি চাকরির নিয়োগে বাড়ছে ভাইভার নম্বর, কমছে লিখিত পরীক্ষার পাস নম্বর

সরকারি চাকরির নিয়োগে বাড়ছে ভাইভার নম্বর, কমছে লিখিত পরীক্ষার পাস নম্বর

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৮:৪২ পিএম, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ 1
সরকারি চাকরির নিয়োগে বাড়ছে ভাইভার নম্বর, কমছে লিখিত পরীক্ষার পাস নম্বর

নিজস্ব প্রতিনিধি ||


সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের পদে সরাসরি নিয়োগের পরীক্ষাপদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত নতুন বিধিমালায় গ্রেডভেদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এতে কোনো কোনো গ্রেডে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বর্তমানের তুলনায় সর্বোচ্চ ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার ন্যূনতম নম্বরও কমানোর প্রস্তাব রয়েছে।


গত ৬ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটি’র বৈঠকে ‘মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ও এর আওতাধীন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, দপ্তর এবং সংস্থাগুলোর ১১-২০তম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষার মানবণ্টন (বিশেষ বিধান) বিধিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়।


যেভাবে বদলাতে পারে পরীক্ষার মানবণ্টন


প্রস্তাবিত বিধিমালায় ১১ থেকে ২০তম গ্রেডকে তিনটি স্তরে ভাগ করে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।


১১–১২তম গ্রেড: মোট ১৫০ নম্বরের পরীক্ষায় লিখিত অংশে ১০০ এবং মৌখিক পরীক্ষায় ৫০ নম্বর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং সংশ্লিষ্ট কারিগরি বিষয় বা সাধারণ জ্ঞানে ২৫ নম্বর করে থাকার কথা বলা হয়েছে।


১৩–১৬তম গ্রেড: মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষায় ৬০ এবং মৌখিক পরীক্ষায় ৪০ নম্বর রাখার প্রস্তাব রয়েছে। লিখিত পরীক্ষার চারটি অংশে ১৫ নম্বর করে বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে।


১৭–২০তম গ্রেড: মোট ৫০ নম্বরের পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক—দুই অংশেই ২৫ নম্বর করে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। লিখিত অংশে বাংলা ১০, ইংরেজি ৫, গণিত ৫ এবং সংশ্লিষ্ট কারিগরি বিষয় বা সাধারণ জ্ঞানে ৫ নম্বর রাখার কথা বলা হয়েছে।


বর্তমান ব্যবস্থায় এসব পদের নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত অংশের গুরুত্ব তুলনামূলক বেশি। নতুন প্রস্তাবে বিশেষ করে ১৭–২০তম গ্রেডে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর সমান হয়ে যাচ্ছে।


কেন পরিবর্তনের উদ্যোগ


সচিব কমিটির জন্য উপস্থাপিত সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বনের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এ ধরনের প্রবণতা ঠেকানো এবং প্রকৃত প্রার্থী যাচাইয়ের লক্ষ্যেই পরীক্ষার মানবণ্টনে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথি ও কর্মকর্তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।


তবে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ও চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, মৌখিক পরীক্ষার ওজন বাড়লে পরীক্ষক বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের ব্যক্তিগত মূল্যায়নের প্রভাব চূড়ান্ত ফলাফলে বেশি পড়তে পারে।


তবে এসব আশঙ্কাকে সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে; প্রস্তাবিত বিধিমালা কার্যকর হলে অনিয়ম বা দুর্নীতি হবেই—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।


কারা নতুন বিধিমালার আওতায় থাকবেন না


প্রস্তাবিত বিধিমালাটি শৃঙ্খলা বাহিনী, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, আনসার ব্যাটালিয়ন, কোস্ট গার্ড, র‍্যাবসহ অন্যান্য বাহিনী এবং সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) আওতাভুক্ত পদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


কারিগরি পদের জন্যও আলাদা ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাব রয়েছে। এসব পদের প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ব্যবহারিক পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হতে হবে। উভয় পরীক্ষায় পাস করার পরই মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে। মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে নিয়োগের জন্য প্রার্থীকে বিবেচনা করা হবে না।


এখনো চূড়ান্ত হয়নি


গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বর্তমানে এটি খসড়া বিধিমালা। সচিব কমিটির অনুমোদন পাওয়ার পরও চূড়ান্ত বিধিমালা জারি ও কার্যকর হওয়ার আগে প্রয়োজনীয় সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ফলে নতুন মানবণ্টন সব ১১–২০ গ্রেডের নিয়োগে ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে—এমন দাবি সঠিক নয়।


প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরির নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক অংশের ভারসাম্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, পরীক্ষার মান এবং মৌখিক পরীক্ষার মূল্যায়ন-পদ্ধতি নিয়েও নতুন করে গুরুত্ব পাবে আলোচনা।