অনলাইন, ০১ নভেম্বর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
বিমানবন্দরে বিতর্কিত ঘটনার মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর ‘আমার দেশ’ পত্রিকা ছেঁড়ার ভিডিও, নিন্দা ও প্রতিবাদ ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের সাংবাদিক আলিফ হত্যা মামলায় ডিবির অভিযানে আরো দুজন গ্রেপ্তার যশোরে পথসভায় বিএনপির উদ্দেশ্যে ডা. শফিকুর রহমান, গণভোটের গণরায় অস্বীকারের মাশুল আপনাদের দিতে হবে চিত্রশিল্পী মুরারি মুরলী মোহনের প্রদর্শনীতে ‘শ্রমজীবী মানুষের বন্দনা’ যশোরে শিক্ষা বোর্ডের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে যশোর, তলানিতে নড়াইল যশোর বোর্ডে শতভাগ ফেলের তালিকায় ১৬ প্রতিষ্ঠান, ৩ কলেজে শতভাগ পাস বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা দেওয়া আফিয়া মাসুমা পেল এ গ্রেড অন্যায়, দখল ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে যুবদলকে অতন্দ্র প্রহরী হতে হবে: এমপি ফখরুল ইসলাম কোম্পানীগঞ্জে এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার ফলাফল: কলেজ ৩৭.৬৫%, হাজারী হাট বিএম কলেজ (কারিগরি) ৭৫%,মাদ্রাসা ৬৫.২৫% কুমিল্লা বোর্ডে এইচএসসি ফলে তলানিতে নোয়াখালী, পাসের হার মাত্র ৩৮.৯০ শতাংশ সৌদি আরবে নিহত পাঁচজনের জনের মরদেহ এসে পৌঁছেছে নওগাঁয় সড়ক দুর্ঘটনায় আরব আমিরাতে এক বাংলাদেশির মৃত্যু সাপের কামড়ে রোগির চিকিৎসায় গাফিলতির কারণে মাদ্রাসা ছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ
হোম › জাতীয় › প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর ‘আমার দেশ’ পত্রিকা ছেঁড়ার ভিডিও, নিন্দা ও প্রতিবাদ ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর ‘আমার দেশ’ পত্রিকা ছেঁড়ার ভিডিও, নিন্দা ও প্রতিবাদ ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০১:৫৬ এএম, ০১ নভেম্বর, ২০২৬ 47
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর ‘আমার দেশ’ পত্রিকা ছেঁড়ার ভিডিও, নিন্দা ও প্রতিবাদ ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের
মো: নাজমুল হাসান বাবু
মো: নাজমুল হাসান বাবুসম্পাদক ও প্রকাশক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খানের প্রকাশ্যে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার কপি ছিঁড়ে ফেলার ভিডিওকে কেন্দ্র করে দেশের গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি)।


গত ৩১ অক্টোবর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে রাশেদ খানকে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার একটি কপি ছিঁড়ে ফেলতে দেখা যায়। পত্রিকাটিতে তাঁকে নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে করা মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে তিনি এভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।


এর আগে দৈনিক আমার দেশ-এ ১৫ অক্টোবর ‘প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা-সহকারীরা কী করছেন?’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়ে ৩১ অক্টোবর ‘এক হয়েছেন হাসিনাপুত্র জয় ও কিছু নব্য বিএনপি’ শিরোনামে আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে পত্রিকাটি। এসব প্রতিবেদনে নিজের নাম ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আপত্তি তোলেন রাশেদ খান।


রাশেদ খানের অভিযোগ, তাঁকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে যুক্ত করে একটি মিথ্যা রাজনৈতিক বয়ান তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, তিনি শেখ হাসিনাকে কটূক্তির মামলায় কারাভোগ করেছেন। ফলে তাঁকে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত করার প্রচারণা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।


পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে রাশেদ খান বলেন, তিনি একটি মিথ্যা বয়ান ছিঁড়েছেন, কোনো পত্রিকা নয়। তাঁর অভিযোগ, দৈনিক আমার দেশ জামায়াতের পক্ষে বয়ান তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পত্রিকাটির অর্থায়ন, সম্পাদকীয় নীতি এবং প্রকাশিত সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।


অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর এমন প্রকাশ্য আচরণকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের প্রশ্ন সামনে এসেছে। ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের নিন্দা ও প্রতিবাদও এ ঘটনাকে ঘিরে সম্পাদক ও গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট মহলের উদ্বেগের বিষয়টি সামনে এনেছে।


সংবাদপত্রের কোনো প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রতিবাদ জানানোর অধিকার রয়েছে। প্রকাশিত তথ্য ভুল হলে তার ব্যাখ্যা দেওয়া, প্রতিবাদলিপি পাঠানো কিংবা প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় প্রতিকার চাওয়ার সুযোগও রয়েছে। তবে একজন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর প্রকাশ্যে সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলার দৃশ্য রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম অঙ্গনে ভিন্ন ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে।


এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীও রাশেদ খানের এ আচরণের সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সংবাদপত্রের কোনো প্রতিবেদন পছন্দ না হলে তথ্য-প্রমাণ দিয়ে তা খণ্ডন করা উচিত। প্রয়োজনে আইনের আশ্রয় নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু সংবাদপত্রের কপি ছিঁড়ে ফেলা দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণের উদাহরণ নয়।


নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মনে করেন, সংবাদমাধ্যম সরকারের প্রতিপক্ষ নয়, আবার সরকারও সংবাদমাধ্যমের ঊর্ধ্বে নয়। সরকারের সমালোচনা সহ্য করার সক্ষমতা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি দায়িত্বশীল অবস্থান পরিষ্কার করারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতা নিয়েও। বিশেষ করে সরকারপ্রধানের ঘনিষ্ঠ দায়িত্বে থাকা একজন ব্যক্তির প্রকাশ্য আচরণ দেশের গণমাধ্যমের পরিবেশ সম্পর্কে কী বার্তা দিচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।


বাংলাদেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা এবং মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। এমন বাস্তবতায় সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের অবস্থান ও প্রতিবাদ বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।


একটি সংবাদপত্রের প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে মতবিরোধ বা সমালোচনা থাকতেই পারে। কিন্তু সেই বিরোধের নিষ্পত্তি হওয়া উচিত তথ্য, যুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করার অধিকার যেমন সংবাদমাধ্যমের রয়েছে, তেমনি সেই সমালোচনার জবাব দেওয়ার দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রয়েছে।