দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের স্কোয়াড ঘোষণা, নেতৃত্বে মাহিদুল আনকন
ক্রীড়া প্রতিবেদক ||
দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে আসন্ন চার দিনের ম্যাচকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ঘোষিত দলে জাতীয় দলের হয়ে খেলা বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের পাশাপাশি রয়েছেন একঝাঁক তরুণ ও উদীয়মান ক্রিকেটার। প্রথম চার দিনের ম্যাচে বাংলাদেশ ‘এ’ দলকে নেতৃত্ব দেবেন উইকেটকিপার-ব্যাটার মাহিদুল ইসলাম ভুইয়া আনকন।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বাংলাদেশ ‘এ’ দল দুটি চার দিনের ম্যাচ ও তিনটি একদিনের ম্যাচ খেলবে। সফরের প্রথম চার দিনের ম্যাচটি আগামী ২৩ থেকে ২৬ আগস্ট প্রিটোরিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় চার দিনের ম্যাচটি হবে ৩০ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পচেফস্ট্রুমে। এরপর ৬, ৯ ও ১২ সেপ্টেম্বর যথাক্রমে ব্লুমফন্টেইন, কিম্বারলি ও পচেফস্ট্রুমে তিনটি একদিনের ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ ‘এ’ দল।
প্রথম চার দিনের ম্যাচের স্কোয়াড
প্রথম চার দিনের ম্যাচের জন্য ঘোষিত ১৩ সদস্যের দলে রয়েছেন—
* মোহাম্মদ নাঈম শেখ
* মাহমুদুল হাসান জয়
* শাহাদাত হোসেন দীপু
* মাহিদুল ইসলাম ভুইয়া আনকন — অধিনায়ক
* জাকের হাসান
* আফিফ হোসেন ধ্রুব
* মোহাম্মদ পারভেজ হোসেন ইমন
* হাসান মুরাদ
* নাঈম হাসান
* আনামুল হক
* আল ফাহাদ
* ইকবাল হোসেন ইমন
* কালাম সিদ্দিকী আলিন।
জাতীয় দলের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একাধিক ক্রিকেটার
বাংলাদেশ ‘এ’ দলের এই স্কোয়াডে জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা থাকা বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার রয়েছেন। ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের দুই টেস্টের সিরিজের স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে এই সফরটি তার জন্য আবারও নিজের সামর্থ্য প্রমাণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে।
দলে রয়েছেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ, শাহাদাত হোসেন দীপু, জাকির হাসান, আফিফ হোসেন ধ্রুব ও নাঈম হাসান—যাদের জাতীয় দলের বিভিন্ন ফরম্যাটে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে কাগজে-কলমে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ব্যাটিং ও বোলিং ইউনিটে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের ভালো সমন্বয় দেখা যাচ্ছে।
নেতৃত্বে আনকন
প্রথম চার দিনের ম্যাচে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পেয়েছেন মাহিদুল ইসলাম ভুইয়া আনকন। উইকেটকিপার-ব্যাটার হিসেবে দলের ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি নেতৃত্বেও তাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
বাংলাদেশ ক্রিকেটে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করা খেলোয়াড়দের বড় মঞ্চে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ করে দেওয়াই ‘এ’ দলের অন্যতম উদ্দেশ্য। আনকনের নেতৃত্বে দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে তরুণ ক্রিকেটাররা নিজেদের সামর্থ্য কতটা মেলে ধরতে পারেন, সেটিও থাকবে নজরে।
দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে বড় পরীক্ষা
দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে চার দিনের ম্যাচ বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাউন্স ও পেসের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করা এবং নতুন বলে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের চাপে রাখা—সব ক্ষেত্রেই ক্রিকেটারদের কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে।
তবে এই সফরে বাংলাদেশ কিছুটা বাড়তি সুবিধাও পেতে পারে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের পাশাপাশি বাংলাদেশের ইমার্জিং দলও দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলছে। ফলে সেখানকার উইকেট ও কন্ডিশন সম্পর্কে আগাম ধারণা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ‘এ’ দলের অধিনায়ক নাঈম শেখও জানিয়েছেন, একই ভেন্যুতে ইমার্জিং দলের ম্যাচ দেখে উইকেটের আচরণ সম্পর্কে ধারণা নেওয়া যাচ্ছে।
শক্তিশালী পাইপলাইন তৈরির লক্ষ্য
বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় দল অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজ খেলছে, অন্যদিকে হাই পারফরম্যান্স ও ইমার্জিং দলের ক্রিকেটাররাও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সফরে ব্যস্ত। একই সময়ে একাধিক বাংলাদেশি দল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নেওয়াকে দেশের ক্রিকেটের শক্তিশালী পাইপলাইনের ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাঈম শেখের ভাষায়, একই সময়ে চার-পাঁচটি বাংলাদেশি দল বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে খেলছে—যা ভবিষ্যতের জন্য শক্তিশালী খেলোয়াড় তৈরির ইঙ্গিত দেয়।
কোচিং স্টাফেও অভিজ্ঞতার ছোঁয়া
বাংলাদেশ ‘এ’ দলের প্রধান কোচ হিসেবে থাকছেন মিজানুর রহমান বাবুল। দক্ষিণ আফ্রিকায় দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে সাবেক ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেসার কোরি কলিমোরেরও। ফলে তরুণ ক্রিকেটারদের সঙ্গে কাজ করার জন্য কোচিং স্টাফেও অভিজ্ঞতার সমন্বয় থাকছে।
সামনে ওয়ানডে সিরিজও
চার দিনের দুটি ম্যাচের পর বাংলাদেশ ‘এ’ দল দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে তিনটি একদিনের ম্যাচ খেলবে। ৬ সেপ্টেম্বর ব্লুমফন্টেইনে প্রথম ওয়ানডে, ৯ সেপ্টেম্বর কিম্বারলিতে দ্বিতীয় এবং ১২ সেপ্টেম্বর পচেফস্ট্রুমে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে।
আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকা ও নামিবিয়ায় ওয়ানডে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় দেশটির কন্ডিশনে এই সফর বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য বিশেষ প্রস্তুতির সুযোগও তৈরি করছে। বিশেষ করে ওয়ানডে সিরিজে নিজেদের প্রমাণ করতে পারলে জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে তরুণদের।
সব মিলিয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে সিরিজটি বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য শুধু আরেকটি ‘এ’ দলের সফর নয়; বরং জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ তারকা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। প্রথম চার দিনের ম্যাচে মাহিদুল আনকনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ কেমন পারফরম্যান্স করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা।
-নিউ ইয়র্ক ভয়েস বাংলা