সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ আর নেই
ঢাকা প্রতিনিধি ||
সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ডা. দীপু মনির স্বামী এবং সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ আর নেই। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে রাজধানীর কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৭৯ বছর বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দীপু মনির বড় ভাই জে আর ওয়াদুদ টিপু জানিয়েছেন, রাত ১০টা ২৭ মিনিটে তৌফিক নেওয়াজ শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন
পরিবার ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। ২০১৯ সালে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এরপর থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে এবং দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।
চলতি বছরের মে মাসেও তাঁর শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। সে সময় তাঁকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। তাঁর দীর্ঘদিনের স্ট্রোক-পরবর্তী জটিলতার পাশাপাশি লিভার ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যার কথাও উঠে আসে।
আইনজীবী হিসেবে পরিচিতি
ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ ছিলেন বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। আইন পেশার পাশাপাশি তিনি সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও পরিচিত ছিলেন। বিশেষ করে ধ্রুপদি সংগীতের চর্চার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। বাঁশি বাজানো ও শাস্ত্রীয় সংগীতচর্চার জন্যও তিনি পরিচিত ছিলেন।
তিনি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর ট্রাস্টি বোর্ডের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে পুরোনো সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দীপু মনির সঙ্গে পারিবারিক জীবন
তৌফিক নেওয়াজ ছিলেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির স্বামী। বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীপু মনি দীর্ঘ সময় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন।
তৌফিক নেওয়াজের দীর্ঘ অসুস্থতার সময়ে পরিবারের সদস্যরা তাঁর চিকিৎসার বিষয়টি দেখভাল করে আসছিলেন। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে হুইলচেয়ারে করে তাঁকে আদালতের অনুমতি নিয়ে কারাবন্দী স্ত্রী দীপু মনির সঙ্গে দেখা করতেও নেওয়া হয়েছিল বলে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
জানাজা ও দাফনের সিদ্ধান্ত পরে
তৌফিক নেওয়াজের জানাজা ও দাফন কোথায় এবং কখন হবে, তা বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরের পর পরিবারের সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন জে আর ওয়াদুদ টিপু।
তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আইন অঙ্গন, স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছেন।
ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের মৃত্যুতে একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী ও সাংস্কৃতিক অনুরাগীকে হারাল বাংলাদেশ। দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর তাঁর এই প্রয়াণে পরিবার, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।
-নিউ ইয়র্ক ভয়েস বাংলা