সরকারি সড়কের জায়গায় শিক্ষকের দোকানপাট
নওগাঁর রাণীনগরের খাঁনপুকুর বাজারে মহা সড়কের সরকারি জায়গা দখলে নিয়ে দোকানপাট গড়ে তোলার অভিযোগে উঠেছে আব্দুল আজিজ নামে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তিনি করজগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং করজগ্রামের বাসিন্দা।
বিগত সময়ে আওয়ামী দাপটে সড়কের পাশের সরকারি জায়গা দখলে নিয়ে কয়েকটি দোকানপাট গড়ে তুলে প্রায় ১৭ বছর ধরে অবৈধভাবে তিনি ভোগদখল করে আসছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে মৌখিক এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে সরকারি সম্পদ উদ্ধার এবং অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করার।
জানা গেছে, রাণীনগর থেকে খাঁনপুকুর হয়ে আবাদপুকুর এবং কালীগঞ্জ পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার মহাসড়ক। এই সড়কের খাঁনপুকুর বাজারে উত্তরপাশে করজগ্রাম মৌজায় সড়কের সরকারি সম্পদ রয়েছে। বিগত সময়ে বেশকিছু জায়গা অবৈধভাবে দখলে নেন করজগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ ও তার ভাই। এরপর সেখানে সরকারি কোন অনুমতি ছাড়াই অবৈধভাবে গড়ে তুলেন ইটের এবং টিনসেডের প্রায় ৮ থেকে ১০টি দোকানঘর। ওইসব অবৈধ দোকান ঘর তৈরির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ওই শিক্ষক স্থানীয় লোকজনকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, আজিজ মাস্টার ও তার ভাইয়েরা যে জায়গায় দোকানপাট করেছে ওই জায়গা সড়কের সরকারি সম্পদ। বিগত সময়ে আওয়ামী ক্ষমতার দাপটে ওই সময় তিনি অবৈধভাবে দোকানপাট করেছে। সরকারি জায়গায় নির্মাণ করা দোকান ঘর তিনি বিভিন্ন জনের কাছে ভাড়া দিয়ে বাণিজ্য করে আসছে। অথচ এই সরকারি সম্পদ থেকে সরকার কোন রাজস্ব পাননা।
তাদের অভিযোগ, অবৈধভাবে গড়ে তোলা দোকানের বিরুদ্ধে স্থানীয় লোকজন প্রতিবাদ করলে ওই প্রধান শিক্ষক তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে। স্থানীয়দের দাবি দ্রুত তদন্ত করে সরকারি সম্পদ উদ্ধার এবং সরকারি সড়কের জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক আব্দুল আজিজ বলেন, ওই জায়গায় সড়কের পাশে যতগুলো দোকান রয়েছে একটি বাদে সব দোকান আমাদের পৈত্রিক জায়গায়। শুধু একটি দোকানের কিছু অংশ সরকারি নকশাতে পড়েছে। তিনি বলেন, একটি প্রতিষ্ঠান নিয়ে দ্বন্দের জেরে কিছু ব্যক্তি আমার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা অভিযোগ করছে।
এ ব্যাপারে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান বলেন, স্থানীয় কিছু লোকজন ওইসব দোকানের বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।