মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটি থেকে পদত্যাগ করলেন মির্জা ফখরুল
ঢাকা: রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর দলের মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর পদ থেকেও পদত্যাগ করেছেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবিরএর আগে বৃহস্পতিবার বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর নাম প্রস্তাব করলে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সর্বসম্মতভাবে তা অনুমোদন করাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন জমা
দলীয় সিদ্ধান্তের পর মির্জা ফখরুলের পক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন ভবনে গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনি কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেয়। এ সময় ইসি সচিব আখতার আহমেদও উপস্থিমির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হয়েছেন ড. আব্দুল মঈন খান এবং সমর্থক হয়েছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রাতিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদ এখন শূন্য হওয়ার পথে
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে মির্জা ফখরুলের বর্তমান তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পরিবর্তন আসবে। তিনি বর্তমানে বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। একই সঙ্গে তিনি সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্তের পর দলীয় পদগুলো থেকে তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি সামনে আসে। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পরই তিনি মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটি থেকে সরে দাঁরাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ১৩ আগস্ট বিকেল ৪টা। এরপর ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা। সবশেষে ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির পাশাপাশি ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্রও জমা পড়েছে। ফলে মির্জা ফখরুলের প্রার্থিতা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হওয়ার আগে নির্বাচন কমিশনের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষ হওয়া গুরুত্বপমির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়া কি নিশ্চিত?
বিএনপি জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হওয়ায় মির্জা ফখরুলের নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী। তবে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি বলতে হলে নির্বাচন কমিশনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং প্রয়োজন হলে ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ হতেযদি একাধিক বৈধ প্রার্থী শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকেন, তাহলে নির্ধারিত দিনে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে ভোট ছাড়াই তাঁকে নির্বাচিত ঘোষণা করার সুযোগ রয়েছেঅতএব, রাজনৈতিক সমীকরণে মির্জা ফখরুলের পাল্লা ভারী হলেও ২০ আগস্টের সাংবিধানিক নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়নিসংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে আলোচনা
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ এবং দলীয় অবস্থান নিয়ে সংবিধানের সংশ্লিষ্ট বিধানও আলোচনায় আসতে পারে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তাঁর আসন শূন্য হওয়ার বিধান রয়তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিষয়টি নির্ভর করবে মির্জা ফখরুলের বর্তমান সংসদীয় অবস্থান, রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর সাংবিধানিক অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধির প্রয়োগের ওপবিএনপির নেতৃত্বে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্বেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে। দলের মহাসচিব পদটি নতুন করে পূরণ করতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় স্থায়ী কমিটিতেও তাঁর জায়গায় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শুধু দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন ব্যক্তি নির্বাচনের বিষয় নয়; এর সঙ্গে বিএনপির ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক নেতৃত্ব ও সরকারের মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদলের বিষয়টিও জড়িয়ে রযসামনে এখন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিন
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে এখন নজর থাকবে তিনটি তারিখে—
১৬ আগস্ট: মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই।
১৮ আগস্ট: প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়।
২০ আগস্ট: জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।
সবকিছু নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী এগোলে ২০ আগস্টই জানা যাবে বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন।তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), নির্বাচন কমিশন এবং বিভিন্ন জাতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন।