Columbus, ০১ নভেম্বর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
যশোরে পূর্ণাঙ্গ হৃদরোগ চিকিৎসার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে, ২৪ পদে নিয়োগের অনুমোদন ভেসপার সামনে নাম্বারপ্লেট সংযোজনের নির্দেশনাপুনর্বিবেচনার দাবিতে মানববন্ধন জ্যামাইকায় তৃতীয় বাংলা স্কুল চালু করল বাংলাদেশ সোসাইটি, প্রবাসী শিশুদের মাতৃভাষা শিক্ষায় নতুন অধ্যায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের সংযোগ বাড়াতে নিউইয়র্কে নতুন চেম্বার অব কমার্সের যাত্রা দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার তিন শহরে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের নির্বাচনী লড়াই, স্থানীয় রাজনীতিতে বাড়ছে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে প্রস্তুত ফিলাডেলফিয়া ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির বিশেষ টাস্কফোর্স পেনসিলভেনিয়ার তিন কাউন্টিতে নির্বাচনী নিরাপত্তা জোরদারে We Are CASA, মাঠে থাকবেন ৫০০ স্বেচ্ছাসেবী নভেম্বরের Visa Bulletin-এ বাংলাদেশি গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের জন্য নতুন সময়সীমা, EB-2 ও EB-3-তে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ICE-এর হেফাজতে থাকা অভিবাসীদের অবস্থান জানার সুযোগ বন্ধের অভিযোগ, ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই একাকী শিশু অভিবাসীদের অ্যাসাইলাম প্রক্রিয়ায় নতুন নিয়ম স্থগিত, আগের ২১ দিনের নোটিশ ব্যবস্থা ফিরিয়ে দিল আদালত ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনী নথি নিয়ে ফেডারেল হস্তক্ষেপের আশঙ্কা, চার আদালতের বিচারকদের কাছে নিউজমের চিঠি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের ব্যাপক সাড়া, আগাম ভোটে ৫ কোটি ৩১ লাখের বেশি নাগরিক বিমানবন্দরে বিতর্কিত ঘটনার মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর ‘আমার দেশ’ পত্রিকা ছেঁড়ার ভিডিও, নিন্দা ও প্রতিবাদ ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের
হোম › আমেরিকা › ICE-এর হেফাজতে থাকা অভিবাসীদের অবস্থান জানার সুযোগ বন্ধের অভিযোগ, ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই

ICE-এর হেফাজতে থাকা অভিবাসীদের অবস্থান জানার সুযোগ বন্ধের অভিযোগ, ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই

যুক্তরাষ্ট্র ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৫:৫০ পিএম, ০১ নভেম্বর, ২০২৬ 62
ICE-এর হেফাজতে থাকা অভিবাসীদের অবস্থান জানার সুযোগ বন্ধের অভিযোগ, ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই
তাসনোভা মৃদুলা
তাসনোভা মৃদুলাসহকারী সম্পাদক॥


যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)-এর হেফাজতে থাকা হাজার হাজার অভিবাসীর অবস্থান তাঁদের পরিবার ও আইনজীবীদের কাছ থেকে গোপন রাখার নতুন নীতির বিরুদ্ধে ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে কয়েকটি অভিবাসী অধিকার ও আইনি সহায়তা সংগঠন। গত ২৮ অক্টোবর ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলাকারীদের অভিযোগ, সরকারের নতুন নীতির কারণে আটক অভিবাসীদের খুঁজে বের করা, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়া আগের তুলনায় অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।


Greater Boston Legal Services et al. v. Mullin নামে মামলাটির নম্বর ২৬-১৪৮৬৯। National Immigration Law Center, National Immigration Project, American Civil Liberties Union, ACLU of Massachusetts এবং আইনজীবী Annelise Araujo-এর সহযোগিতায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। এতে Greater Boston Legal Services, Rian Immigrant Center, Florence Immigrant and Refugee Rights Project এবং Amica Center for Immigrant Rights বাদী হিসেবে অংশ নিয়েছে।


মামলার মূল বিষয় হলো ICE-এর অনলাইন ডিটেইনি লোকেটর ব্যবস্থা। দীর্ঘ ১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের Department of Homeland Security আটক অভিবাসীদের অবস্থান শনাক্ত করার জন্য Online Detainee Locator System ব্যবহার করে আসছিল। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিবার, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আটক ব্যক্তির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার সুযোগ পেতেন। কিন্তু মামলাকারীদের দাবি, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে DHS নীতিতে পরিবর্তন এনে যেসব অভিবাসীর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ডিপোর্টেশন আদেশ রয়েছে, তাঁদের অবস্থান অনলাইন ব্যবস্থায় প্রকাশ করা বন্ধ করে দেয়। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্য বা আইনজীবীদের সরাসরি অনুসন্ধানের ক্ষেত্রেও তথ্য সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর বক্তব্য, নতুন নীতির ফলে আটক ব্যক্তিদের অবস্থান সম্পর্কে পরিবার ও আইনজীবীরা নিশ্চিত হতে পারছেন না। অনেক ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি কোন ডিটেনশন সেন্টারে আছেন, তাঁকে অন্য অঙ্গরাজ্যে স্থানান্তর করা হয়েছে কি না, কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে ডিপোর্টেশনের প্রক্রিয়া কতদূর এগিয়েছে—এসব তথ্য জানা কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে শুধু পারিবারিক যোগাযোগ নয়, আইনি সহায়তা পাওয়ার অধিকারও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।


মামলাকারীদের দাবি, ডিপোর্টেশনের চূড়ান্ত আদেশ থাকলেও একজন অভিবাসীর সব আইনি সুযোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায় না। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তিনি মামলা পুনরায় খোলার আবেদন, আটকাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ, আদালতের সহায়তা চাওয়া কিংবা অন্য কোনো আইনগত প্রতিকার গ্রহণের সুযোগ পেতে পারেন। কিন্তু আইনজীবী যদি তাঁর মক্কেলের অবস্থানই জানতে না পারেন, তাহলে এসব আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ কঠিন হয়ে পড়ে।


মামলায় আরও বলা হয়েছে, সরকারের এই নীতি Administrative Procedure Act, First Amendment এবং Freedom of Information Act-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তবে এগুলো মামলাকারীদের অভিযোগ ও আইনি যুক্তি; আদালত এখনো এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণ করেননি। বাদীপক্ষ আদালতের কাছে নীতিটি বাতিল এবং মামলা চলাকালে এর বাস্তবায়ন স্থগিত করার আবেদন জানিয়েছে।


বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ICE-এর হেফাজতে গেলে তাঁর পরিবারকে দ্রুত আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করা, ব্যক্তির পূর্ণ নাম, জন্মতারিখ, A-Number এবং সর্বশেষ জানা অবস্থানের তথ্য সংরক্ষণ করা জরুরি। সরকারি ডিটেইনি লোকেটর ব্যবহার করেও তথ্য অনুসন্ধানের চেষ্টা করা যেতে পারে। তবে নতুন নীতির কারণে কিছু ব্যক্তির তথ্য অনলাইনে নাও পাওয়া যেতে পারে।


এ ধরনের পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদের গুজব বা অনানুষ্ঠানিক তথ্যের ওপর নির্ভর না করে অভিবাসন আইনজীবী এবং নির্ভরযোগ্য আইনি সহায়তা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। বিশেষ করে যাঁদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ডিপোর্টেশন আদেশ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে দ্রুত আইনি পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।


মামলাটি এখনো বিচারাধীন। ফলে আদালতের রায়ের আগে ICE-এর নীতিকে চূড়ান্তভাবে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে—এমন দাবি করা যাবে না। তবে আটক অভিবাসীদের অবস্থান শনাক্ত করার সুযোগ, পরিবার ও আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার নিয়ে এই মামলা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে।


তথ্যসূত্র: National Immigration Law Center, মামলা আপডেট ৩০ অক্টোবর ২০২৬; মামলা নম্বর ২৬-১৪৮৬৯।