নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে প্রস্তুত ফিলাডেলফিয়া ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির বিশেষ টাস্কফোর্স
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের নিরাপত্তা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিশেষ Election Task Force সক্রিয় করেছে ফিলাডেলফিয়ার ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়। আগামী ৩ নভেম্বর মঙ্গলবারের নির্বাচন ঘিরে কোনো ধরনের নির্বাচনী অপরাধ, ভোটারদের বাধা দেওয়া কিংবা পেনসিলভেনিয়ার নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে তা তদন্তের জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
৩০ অক্টোবর প্রকাশিত ফিলাডেলফিয়া ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ল্যারি ক্রাসনার Election Task Force সক্রিয় করার ঘোষণা দিয়েছেন। এই টাস্কফোর্সের প্রধান দায়িত্ব হবে নির্বাচনের দিন সংঘটিত অপরাধের অভিযোগ তদন্ত করা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিচারিক ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা করা।
নির্বাচনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রে ফিলাডেলফিয়া পুলিশ বিভাগ, শেরিফের কার্যালয়, Philadelphia City Commissioners Office এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে টাস্কফোর্স। ভোটকেন্দ্রে কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে এবং নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়।
নির্বাচনের দিন ভোটারদের জন্য বিশেষ যোগাযোগ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। কোনো ভোটার ভোটকেন্দ্রে সহিংসতা বা শারীরিক হুমকির মুখোমুখি হলে অবিলম্বে ৯১১ নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচনী কেন্দ্রে অনিয়ম, ভোট দিতে বাধা দেওয়া কিংবা নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ জানাতে Philadelphia District Attorney’s Election Task Force-এর হটলাইন ২১৫-৬৮৬-৯৬৪১ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। জাতীয় পর্যায়ের নিরপেক্ষ Election Protection হটলাইন ৮৬৬-OUR-VOTE নম্বরেও অভিযোগ জানানো যাবে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে সাধারণ তথ্যের জন্য Philadelphia City Commissioners Office-এর ২১৫-৬৮৬-VOTE নম্বর নির্ধারিত রয়েছে।
ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ল্যারি ক্রাসনার বলেছেন, যোগ্য প্রত্যেক ভোটারের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত। রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর পরিচয় নির্বিশেষে ভোটাররা যেন কোনো বাধা ছাড়াই ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করাই টাস্কফোর্সের অন্যতম লক্ষ্য। তাঁর কার্যালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও প্রতিটি বৈধ ভোটের যথাযথ গণনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
ফিলাডেলফিয়া পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকেও নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছে। পুলিশের ইউনিফর্মধারী সদস্যদের পাশাপাশি তদন্তকারী কর্মকর্তারাও প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ করবেন। নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগ পাওয়া গেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় আরও জানিয়েছে, ভোটকেন্দ্রের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরও টাস্কফোর্সের কাজ অব্যাহত থাকবে। বিদেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিক এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ব্যালটসহ সব ভোটের আনুষ্ঠানিক প্রত্যয়ন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে।
ভোটারদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নির্বাচনের দিন রাত ৮টার মধ্যে কোনো যোগ্য ভোটার ভোটকেন্দ্রের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলে তাঁকে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। অর্থাৎ ভোটগ্রহণের নির্ধারিত সময় শেষ হলেও ৮টার আগে লাইনে দাঁড়ানো ভোটারদের ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে।
ফিলাডেলফিয়া ও আশপাশের এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশি-আমেরিকান নাগরিকদের জন্যও এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। ভোটকেন্দ্রে কোনো সমস্যা, ভীতি প্রদর্শন কিংবা ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধার সম্মুখীন হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি হটলাইনে যোগাযোগ করা যেতে পারে। একই সঙ্গে ভোটারদের নিজেদের ভোটকেন্দ্র, ভোটের সময় এবং প্রয়োজনীয় নির্বাচনী তথ্য আগেই যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: Philadelphia District Attorney’s Office, সরকারি বিজ্ঞপ্তি, ৩০ অক্টোবর ২০২৬।