যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের ব্যাপক সাড়া, আগাম ভোটে ৫ কোটি ৩১ লাখের বেশি নাগরিক
ওয়াশিংটন, ১ নভেম্বর ২০২৬: যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশজুড়ে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। আগামী ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচন। ভোটগ্রহণের আর মাত্র দুই দিন বাকি থাকতে আগাম ভোটের সংখ্যা ৫ কোটি ৩১ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রচারণা, গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ভোটারদের অংশগ্রহণ মার্কিন রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।
আল জাজিরার ১ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার Election Lab-এর তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, রোববার সকাল ৬টা ৫৬ মিনিট ইস্টার্ন টাইম পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৫ কোটি ৩১ লাখ ৪০ হাজার ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখ ভোটার সরাসরি ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোট দিয়েছেন এবং প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ ভোট এসেছে মেইল-ইন ব্যালটের মাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্রে মোট নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা প্রায় ২১ কোটি বলে একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আগের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সঙ্গে তুলনা করলে এবার আগাম ভোটের পরিমাণ বৃদ্ধির বিষয়টি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের একই সময়ে প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ ভোটার আগাম ভোট দিয়েছিলেন। সে তুলনায় এবার ভোটারদের আগাম অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে আগাম ভোটের এই সংখ্যা চূড়ান্ত নির্বাচনী ফলাফল সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো পূর্বাভাস দেয় না।
নির্বাচন বিশ্লেষণে রাজনৈতিক দলভিত্তিক আগাম ভোটের তথ্যও আলোচনায় এসেছে। ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার তথ্য অনুযায়ী, এবার আগাম ভোট দেওয়া নিবন্ধিত ডেমোক্র্যাট ভোটারের সংখ্যা ১ কোটি ১০ লাখের বেশি, যেখানে নিবন্ধিত রিপাবলিকান ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৮০ লাখ। তবে সব অঙ্গরাজ্যে ভোটার নিবন্ধনের তথ্য একইভাবে সংগ্রহ করা হয় না এবং অনেক ভোটারের দলীয় পরিচয় প্রকাশ্য নয়। ফলে এই পরিসংখ্যানকে চূড়ান্ত রাজনৈতিক সমর্থনের পরিমাপক হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।
মধ্যবর্তী নির্বাচন মার্কিন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের একাংশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়। কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তার ওপর প্রেসিডেন্টের প্রশাসনের আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন, অভিবাসননীতি, করনীতি এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচির বাস্তবায়ন অনেকাংশে নির্ভর করে।
বিশেষ করে অভিবাসন, জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক নীতি এবারের নির্বাচনী আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নীতিমালা এবং তার রাজনৈতিক প্রভাবও নির্বাচনী প্রচারণার কেন্দ্রে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জন্যও নির্বাচনটি তাৎপর্যপূর্ণ। অভিবাসন আইন, নাগরিকত্ব, ছোট ব্যবসার করনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের মতো বিষয়গুলো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রভাবিত হতে পারে। ফলে শুধু জাতীয় রাজনীতি নয়, স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতাও বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
আগামী ৩ নভেম্বর ভোটগ্রহণ শেষে নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ শুরু হবে। তবে মেইল-ইন ব্যালট, সামরিক ও বিদেশে অবস্থানরত ভোটারদের ব্যালট এবং অন্যান্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ার কারণে কিছু আসনের চূড়ান্ত ফলাফল পেতে সময় লাগতে পারে। নির্বাচনের ফলাফলই নির্ধারণ করবে আগামী দুই বছর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য কোন দিকে যাবে।
তথ্যসূত্র: University of Florida Election Lab এবং Al Jazeera, ১ নভেম্বর ২০২৬।