পোশাক খাতে অস্থিরতায় ইন্ধনের সন্দেহে শতাধিক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দ, ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ
তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষে অর্থ জোগান ও ইন্ধনের সন্দেহে শতাধিক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। পাশাপাশি প্রায় ১২৫টি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনের তথ্য তলব করা হয়েছে। এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল ও আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ নির্দেশ দিয়েছে।
এনবিআরের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, তালিকার বেশির ভাগ ব্যক্তি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট—সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। তাঁদের মধ্যে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, সাবেক সংসদ সদস্য ও এনভয় গ্রুপের মালিক আবদুস সালাম মুর্শেদী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও নসরুল হামিদ, সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম এবং বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এস এম মান্নান কচির নাম রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের তালিকায় আছে রেনেসাঁ, ওয়েল, নিপা, স্ট্যান্ডার্ড, সাদমা ও তুসুকা গ্রুপ।
তবে তালিকায় এমন কয়েকজন শীর্ষ ব্যবসায়ীর নামও এসেছে, যাঁদের রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এনভয় গ্রুপের সঙ্গে সাড়ে চার বছর আগে ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব শেষ হলেও শেলটেক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ ও তাঁর মায়ের ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হয়েছে। তানভীর আহমেদ বলেন, যাচাই-বাছাই করে তালিকা করলে এমন হয়রানি হতো না; অভিযোগ থাকলে আগে তাঁদের সঙ্গে কথা বলা যেত।
সালাম মুর্শেদীর মেয়ে ও এনভয় গ্রুপের পরিচালক শেহরীন সালাম ঐশী জানিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের স্থায়ী আমানত (এফডিআর) জব্দ করা হয়েছে এবং ব্যবসায়িক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে। তিনি সতর্ক করেন, ব্যবসায়িক হিসাব জব্দ হলে কারখানার কার্যক্রম ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সাদমা ফ্যাশন ওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন অর্থায়নের অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলেছেন। তালিকায় থাকা অন্যদের অনেকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি; কেউ কেউ কারাগারে, কেউ বিদেশে আছেন বলে জানা গেছে।
এনবিআরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। কারখানার কার্যক্রম ও শ্রমিকদের বেতন যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য প্রতিষ্ঠানের হিসাব জব্দ করা হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রায় সব সরকারের আমলেই মজুরি আন্দোলনে বাইরের ইন্ধনের অভিযোগ ওঠে, কিন্তু এবার দুই শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একসঙ্গে পদক্ষেপ নজিরবিহীন। সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিলে কারও আপত্তি থাকত না বলে মনে করছেন তাঁরা। উল্লেখ্য, ন্যূনতম মজুরি সাড়ে ১২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে চলতি সপ্তাহে পোশাকশ্রমিকেরা আন্দোলন করেন; সরকার মজুরি বোর্ড গঠনের পর বেশির ভাগ কারখানায় কাজ স্বাভাবিক হয়েছে।
ফাইল ছবি: ঢাকার আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবন — Dead.rabbit / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)