হাতিয়ায় আইনশৃঙ্খলা সভায় এমপিকে ঘিরে উত্তেজনা, ছাত্রদল-এনসিপি কর্মীদের সংঘর্ষে আহত কয়েকজন
মোহাম্মদ উল্যা
নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি
নোয়াখালীর হাতিয়ায় উপজেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাকে কেন্দ্র করে সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদকে ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সভায় আসার পথে উপজেলা পরিষদ ভবনের প্রবেশদ্বারে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। পরে সভার বাইরে ছাত্রদল ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অনুসারীদের মধ্যে ফের উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাতিয়া উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাতীয় সংসদে হাতিয়ার নৌঘাটসহ বিভিন্ন বিষয় এবং জেলা পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা সভা ও এনসিপির দলীয় কর্মসূচিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের জড়িয়ে সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। এ বক্তব্যকে তারা ‘মিথ্যা ও জনবিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করে আসছেন।
বৃহস্পতিবার আইনশৃঙ্খলা সভায় যোগ দিতে উপজেলা পরিষদে প্রবেশের সময় সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ ও তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন বিএনপি নেতার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সংসদ সদস্যকে সভাস্থলে নেওয়া হয়।
সভা শেষ হওয়ার দিকে উপজেলা পরিষদের বাইরে আবারও ছাত্রদল ও এনসিপি অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে সংসদ সদস্য সভায় বক্তব্য না দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে ফের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পরে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় উপজেলা যুবশক্তির সদস্যসচিব ছাইফুল ইসলাম রাকিব এবং ছাত্রদলের নেতা আকরাম, সাকিব, সাখাওয়াত হোসেন হিরো ও আজাদসহ কয়েকজন আহত হন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। প্রশাসন ও স্থানীয় বিএনপির নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এর আগে, শ্রমিক শক্তির সভাপতি আবীর হোসেন তার স্ত্রীকে হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজে ভর্তি করাতে নিয়ে গেলে ছাত্রদলের কর্মীদের সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ সময় তাকে মারধর করে আহত করার অভিযোগ ওঠে। পরে বিকেলে উপজেলা মসজিদ মার্কেটের সামনে প্রধান সড়কে ছাত্রশক্তির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব মো. ছাইফুল ইসলামকে ছাত্রদলের কর্মীরা মারধর করেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়।
উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ প্রায় এক ঘণ্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে অবস্থান করেন। পরে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে তার বাসভবনে চলে যান।
এ বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক সামছল তিব্রীজ বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। তার দাবি, ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
অন্যদিকে হাতিয়া পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশিক ইকবাল বলেন, সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ জাতীয় সংসদসহ বিভিন্ন জায়গায় বিএনপিকে জড়িয়ে উসকানিমূলক ও মিথ্যা বক্তব্য দেওয়ায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। তবে তিনি দাবি করেন, এ ঘটনায় বিএনপির কোনো নির্দেশনা ছিল না।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা পরিষদ এলাকায় কিছু সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করলেও পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।