মহেশখালীতে বৈরী আবহাওয়া, কমেছে LNG সরবরাহ; জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সংকটের আশঙ্কা
বাংলাদেশ প্রতিনিধি
কক্সবাজারের মহেশখালী এলাকায় বৈরী আবহাওয়ার কারণে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা LNG খালাস ও ভাসমান টার্মিনালে স্থানান্তর ব্যাহত হওয়ায় দেশে গ্যাস সরবরাহ আবার কমে গেছে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ আমদানি করা LNG থেকে পুনঃগ্যাসীকৃত গ্যাসের সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুটে। কয়েক দিন আগেও এই সরবরাহ প্রায় এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি ছিল।
ফলে দেশের মোট গ্যাস সরবরাহও কমে প্রায় ২ হাজার ৩০১ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরবরাহ ছিল প্রায় ১ হাজার ৬১৫ মিলিয়ন ঘনফুট।
পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে LNG স্থানান্তর স্বাভাবিক হবে এবং গ্যাস সরবরাহও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরবে।
মহেশখালীতে বাংলাদেশের LNG আমদানির দুটি ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ টার্মিনাল বা FSRU রয়েছে। এই দুটি টার্মিনাল দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এর আগে দীর্ঘ সময়ের সরবরাহ সমস্যার পর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে LNG সরবরাহ প্রায় স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে এসেছিল। কিন্তু কয়েক দিনের ব্যবধানেই বৈরী আবহাওয়ার কারণে আবার সরবরাহ কমে গেল।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন, আমদানিনির্ভর LNG সরবরাহ ব্যবস্থায় আবহাওয়া, কারিগরি ত্রুটি বা টার্মিনাল-সংক্রান্ত সমস্যার প্রভাব দ্রুত জাতীয় গ্যাস সরবরাহে পড়ে।
গ্যাস সরবরাহ কমে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা, সার উৎপাদন এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক কার্যক্রমে চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে সরবরাহ কমে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
তবে পেট্রোবাংলা বলছে, আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে LNG স্থানান্তর আবার স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমদানি করা LNG গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ফলে মহেশখালীর টার্মিনালগুলোতে সরবরাহ ও খালাস কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা জাতীয় গ্যাস ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।