বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে অতিষ্ঠ মৌলভীবাজার বাসী; প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ ঘন্টা লোডশেডিং
মাহিদুল ইসলাম
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি॥
মৌলভীবাজারে ধরে তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং চলছে। সপ্তাহে বন্ধের দিন শুক্রবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সমানতালে ৭ দিন চলছে এই লোডশেডিং। গরমের এমন লোডশেডিংয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থী, শিশু ও বয়স্কা। দিন ও রাত মিলে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ ঘন্টা লোডশেডিং এর কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
জানা যায়, সেপ্টেম্বরের তীব্র এই গরমের মধ্যে জেলা শহরসহ জেলার ৭ টি উপজেলায় সমানভাবে লোডশেডিং করা হচ্ছে। সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা ও রাতে লোডশেডিং করা হয়। প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৪ ঘন্টা লোডশেডিং এর ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে জেলার প্রায় ৫ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহক। তীব্র গরমের মধ্যে লোডশেডিং এর কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থী, শিশু বাচ্চা ও বয়স্করা। অতিরিক্ত গরমের কারণে অনেক শিশু ও বয়স্ক মানুষেরা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এমনকি অতিরিক্ত লোডশেডিং এর কারণে সরকারি হাসপাতাল গুলোতে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বলছে, আমাদের দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় অনেক কম পাচ্ছি বিদ্যুৎ। শুক্রবার বিকেল ৩ টায় চাহিদা ছিলো ৯৫ মেগাওয়াট। অথচ বিদ্যুৎ পেয়েছি ৭১ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে লোডশেডিং বেড়ে গেছে।
এদিকে ঘনঘন লোডশেডিং এর কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক অসুস্থ হয়ে গেছেন। বিদ্যুৎ নির্ভর স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা ও সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা প্রদান ব্যাহত হচ্ছে।
শহীদনগর বাজারের কারখানার মালিক হেলাল মিয়া বলেন, অতিরিক্ত লোডশেডিং এর কারণে আমরা কাজ করতে পারছিনা। দিন-রাত সমানভাবে লোডশেডিং হচ্ছে। ঘনঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় মেশিনারিজের ক্ষতি হচ্ছে।
শিক্ষার্থী ফয়ছল আহমেদ বলেন, একদিকে তীব্র গরম, অন্যদিকে ভয়াবহ বিদ্যুৎ লোডশেডিং এই দুইটা মিলে আমাদের সর্বনাশ হয়ে যাচ্ছে।
নভেম্বর থেকে পরিক্ষা শুরু হবে। ঘনঘন বিদ্যুৎ এর লোডশেডিং এর কারণে পড়ালেখা করতে পারছিনা।
গরমের দাপট কমে কমে আসবে এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় থেকে তাপমাত্রা কমে আসবে। সাধারণত ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা এর নিচে তাপমাত্রা নেমে আসলে আমরা শীত মৌসুমের আগমন মনে করি। এখন তাপমাত্রা বেশি গরম থাকবে আরও কিছু দিন।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী সুজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, আমরা চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম পাচ্ছি। আসলে আগে মানুষের বিদ্যুৎ এর চাহিদা কম ছিল এখন আগের তুলনায় কয়েকগুণ চাহিদা বেড়ে গেছে। আজ আমাদের প্রয়োজন ৯৫ মেগাওয়াট অথচ আমরা বিদ্যুৎ পাচ্ছি ৭১ মেগাওয়াট যা বিকেল ৩ টার হিসেব।