কোম্পানীগঞ্জে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু: হত্যার অভিযোগে স্বজনদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
মোহাম্মদ উল্যা,
নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে এমরান হোসেন রনি (২৮) নামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন তাঁর স্বজন ও এলাকাবাসী।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিক্ষোভকারীরা কোম্পানীগঞ্জ থানার সামনে অবস্থান নেন।
নিহত এমরান হোসেন রনি উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চরকচ্ছপিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বিকেলে রনি রামপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে তাঁর স্ত্রী লুৎফুর নাহার উর্মির নানা ফজল হকের বাড়িতে যান। পরদিন বুধবার সকালে ওই বাড়ির পাশের একটি পুকুরপাড়ে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
রনির পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।
মানববন্ধনে রনির ছোট বোন আয়েশা আক্তার অভিযোগ করেন, তাঁর ভাইয়ের স্ত্রী লুৎফুর নাহার উর্মির সঙ্গে তাঁর মামাতো ভাই শাকিলের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। রনি বিষয়টি জানতে পারার পর তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
আয়েশার অভিযোগ, গত মঙ্গলবার রনিকে ডেকে নিয়ে তাঁর স্ত্রী উর্মি, শাকিল ও উর্মির নানা ফজল হক মিলে তাঁকে হত্যা করে পরে মরদেহ গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি তিনি। রনি আত্মহত্যা করে থাকলে তাঁর পায়ে জুতা থাকার বিষয়টিও পরিবারের কাছে সন্দেহজনক বলে দাবি করেন আয়েশা।
তিনি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে রনির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে তাঁদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
এদিকে রনির পরিবারের করা অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত লুৎফুর নাহার উর্মি, শাকিল ও ফজল হকের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে চরফকিরা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম রাব্বানী বিপ্লব, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রইছ উদ্দিন মাসুদ, সাবেক ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি শিহাব উদ্দিন রিপন, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন রিপনসহ স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল হাকিম বলেন, “লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই রনির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।