নেত্রকোণায় শ্বাসরোধে হত্যার পর নারীর লাশ পুঁতে রেখেছিলো সাবেক স্বামী, এক সপ্তাহ পর উদ্ধার
মামুন রণবীর,
নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি
নেত্রকোণায় এক সপ্তাহ আগে নিখোঁজ হওয়া নাজমা আক্তার নাজু (৩৪) নামে এক নারীর মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নেত্রকোণা সদর উপজেলার মৌগাতী ইউনিয়নের নগুয়া গ্রামের ঢুকিয়ালী নদীর পাড় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের সাবেক স্বামী নুরুল আমীনকে (৪০) আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সন্ধ্যার দিকে নগুয়া গ্রামে নদীর তীর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
আটককৃত নুরুল আমীন নগুয়া কুশলগাঁও গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের ছেলে। নিহত নাজমা আক্তার সদর উপজেলার কাটলী এলাকার ইসলাম উদ্দিনের মেয়ে।
পুলিশ জানায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে নাজমা আক্তার নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই মো. শুভ (১২) গত ২২ সেপ্টেম্বর নেত্রকোণা মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নাজমার সাবেক স্বামীকে আটক করা হলে জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার কথা স্বীকার করে।
নেত্রকোণা মডেল থানার ওসি মো. আবুল খায়ের বলেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় জমির কীটনাশক কিনতে নেত্রকোণা শহরে আসার পর নাজমা তার সাবেক স্বামী নুরুল আমীনকে ফোন করেন। পরে বড়বাজার এলাকায় তাদের দেখা হলে দুইজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা তাদের সরিয়ে দেন।
পরে ভরণপোষণের ৬ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলে নাজমাকে রিকশায় রাজুর বাজারে নিয়ে যান নুরুল আমীন। সেখান থেকে ভাড়া করা মোটরসাইকেলে তারা মৌগাতী ইউনিয়নের খাটপুড়া ব্রিজ এলাকায় যান।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে টাকা দেওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে আবারও তর্ক হয়। একপর্যায়ে নুরুল আমীন নাজমাকে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে কাঁধে করে পাশের শ্মশানঘাটে নিয়ে নাজমার ওড়না দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহটি বাড়ির পাশে ঢুকিয়ালী নদীর পাড়ে নিয়ে কোদাল দিয়ে গর্ত করে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রায় ১৪ বছর আগে নাজমা ও নুরুল আমীনের বিয়ে হয়। তাদের ছয় বছরের ছেলে মুজাহিদ ও আড়াই বছরের মেয়ে নাজিফা রয়েছে। পারিবারিক কলহের জেরে তাদের একাধিকবার বিচ্ছেদ ও পুনরায় বিয়ে হয়। সর্বশেষ তারা আলাদা থাকছিলেন।
পুলিশ জানায়, নাজমা সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে দেনমোহর ও ভরণপোষণের মামলা করেছিলেন। এছাড়া ধর্ষণের অভিযোগে দায়েরকৃত আরেকটি মামলা পিবিআই এর তদন্তাধীন রয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নেত্রকোণা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।