২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মতো দুর্নীতির মহোৎসব শুরু হয়েছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
ঢাকা প্রতিনিধি॥
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেছেন, দেশে আবারও ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সময়কার মতো দুর্নীতির মহোৎসব শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি চাঁদাবাজি, রাহাজানি, লুটপাট ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন।
শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কেরানীহাটে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও নাগরিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় এনসিপির কেন্দ্রীয় ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে যে দুর্নীতির মহোৎসব চলেছিল, এখন আবার সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দুর্নীতি ও অবৈধ অর্থের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে যাদের পকেট ভর্তি হয়ে গেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সময় এসেছে। আওয়ামী লীগ পালিয়ে গেলেও কোনো দুর্নীতিবাজ যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে, সে জন্য সীমান্তে নজরদারি জোরদারের কথাও বলেন তিনি।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন এনসিপির এই নেতা। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনে টাকার শক্তি, দুর্নীতির অর্থ কিংবা পেশিশক্তি ব্যবহার করে কেউ প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলে জনগণ তা মেনে নেবে না। তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে জনগণেরই জয় হওয়া উচিত।
পাটওয়ারী চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও লুটপাটের সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক ঐক্যের সম্ভাবনা নেই বলেও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যেখানে চাঁদাবাজি, রাহাজানি, লুণ্ঠন ও নারী নির্যাতনের মতো অভিযোগ রয়েছে, সেখানে ঐক্যের সুযোগ থাকতে পারে না।
একই অনুষ্ঠানে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর দলের ভূমিকা নিয়েও বক্তব্য দেন। তিনি দাবি করেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্ষমতা এনসিপির হাতে যাবে; বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাবে না—এমন বক্তব্যও দেন তিনি। এটি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দলের অবস্থান হিসেবে এসেছে; এটি কোনো প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ফলাফল নয়।
পাটওয়ারীর বক্তব্যে বর্তমান সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা উঠে আসে। তিনি সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির মতো অভিযোগের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে তাঁর এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সময়কাল প্রসঙ্গে পাটওয়ারীর বক্তব্যের পেছনে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও রয়েছে। ওই সময় বাংলাদেশ দুর্নীতির সূচক নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ছিল। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২০০৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, দুর্নীতি তখন বাংলাদেশের সংস্কার ও উন্নয়নের পথে একটি গুরুতর বাধা ছিল। একই সময়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতি ধারণা সূচকেও বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে সর্বনিম্ন অবস্থানগুলোর একটিতে ছিল।
তবে বর্তমান সময়ে দুর্নীতির পরিস্থিতি ২০০১–২০০৬ সালের সঙ্গে একই মাত্রায় পৌঁছেছে কি না—এটি পাটওয়ারীর রাজনৈতিক মূল্যায়ন। তাঁর বক্তব্যের সত্যতা নির্ধারণের জন্য বর্তমান সময়ের দুর্নীতির পরিসংখ্যান, মামলা, তদন্ত ও স্বাধীন আন্তর্জাতিক সূচকের তথ্য আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সাতকানিয়ার এই মতবিনিময় সভায় পাটওয়ারীর বক্তব্যে মূলত তিনটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে—দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান, আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে অর্থ ও পেশিশক্তির ব্যবহার ঠেকানো এবং এনসিপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা। বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর দলের অবস্থানও তুলে ধরেন।