অনিয়ম বরদাশত নয়, কারো ভুলের দায় বিএনপি নেবে না: সতর্কতা মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর
ঢাকা প্রতিনিধি॥
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার কিংবা এমন কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না, যাতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। একই সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কলঙ্কের দায় বিএনপি নেবে না।
৩০ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এসব কথা বলেন। তিনি জানান, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এবং ওই বছরের ৬ জুনের মধ্যে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে বলেও জানান তিনি।
মীর শাহে আলম বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত বিএনপি সরকার জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও জনগণের ভোটের প্রতিফলন নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কলঙ্কের দায় বিএনপি নেবে না। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো আচরণও বরদাশত করা হবে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে দলের নেতা-কর্মী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানও এর আগে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বিগত ১৭ বছরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, তবে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে প্রশাসনিক অনিয়ম এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের আচরণ—দুই ক্ষেত্রেই জবাবদিহির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে মাঠপর্যায়ে দলীয় প্রভাব, নির্বাচনী অনিয়ম কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার ঠেকাতে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
কুড়িগ্রামে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, নির্বাচন কমিশনকে একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহীদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বাড়ার সম্ভাবনার মধ্যে সরকারের এই সতর্কবার্তা এসেছে। তবে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা নির্দিষ্ট ঘটনা ও প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দায় নির্ধারণ করতে হবে। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য মূলত সরকারের ঘোষিত অবস্থান ও সতর্কবার্তা হিসেবে এসেছে।