Columbus, ১০ অক্টোবর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ আটক ৩ হাজারের বেশি, সিজেপির আন্দোলন ঘিরে অচল দিল্লি কুলাউড়ারয় চা বাগানের শতাধিক চারা গাছ কর্তন করেছে দুর্বৃত্তরা বেনাপোল বন্দর থেকে ৭ কোটি টাকার পণ্য পাচার, ঢাকায় আটক, বেনাপোলে শুল্ক ফাঁকির মহোৎসবে বড় বাঁধা যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিঞা কুড়িগ্রামে ইনায়া ডিজিটাল ব্রিজ স্কেল উদ্বোধন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত কোম্পানীগঞ্জ অঞ্চলে জামায়াতের শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত, অংশ নেন ২৮০ প্রতিনিধি কুষ্টিয়ায় মাথাভাঙ্গা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে আহত কৃষক। দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, নির্বাচন কমিশনবিরোধী আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা দিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচির আগে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করল পুলিশ কুলাউড়ায় পানপুঞ্জি পরিদর্শনে পুলিশ, দোষীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস মৌলভীবাজারে মাহফিলে কমলার হালি ৫০ হাজার, আধা কেজি খেজুর ১৫ হাজার কমলগঞ্জে ২২বোতল ভারতীয় মদসহ দুই যুবক আটক নিখোঁজের তিনদিন পর রেললাইনের পাশে মিলল তরুণের লাশ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দূর্গোৎসব নির্বিঘ্নে করতে প্রস্তুতিমূলক সভা লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহারের উদ্যোগ, বাড়বে চালকদের আয় : প্রতিমন্ত্রী অমিত যশোর কারাগারে বন্দি ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু
হোম › আন্তর্জাতিক › চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ আটক ৩ হাজারের বেশি, সিজেপির আন্দোলন ঘিরে অচল দিল্লি

চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ আটক ৩ হাজারের বেশি, সিজেপির আন্দোলন ঘিরে অচল দিল্লি

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৮:৫২ এএম, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ 36
চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ আটক ৩ হাজারের বেশি, সিজেপির আন্দোলন ঘিরে অচল দিল্লি

দিল্লি প্রতিনিধি॥


ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতেt ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকে নির্বাচন কমিশনবিরোধী আন্দোলন ঘিরে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। শনিবার (১০ অক্টোবর) দিনভর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তিন হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী, বিরোধী দলের নেতা, রাজনৈতিক কর্মী, শিক্ষার্থী, আইনজীবী, সাংবাদিক ও অনলাইন কনটেন্ট নির্মাতারা রয়েছেন।


আটক চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী হলেন পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরালার পিনারাই বিজয়ন এবং ত্রিপুরার মানিক সরকার। তাঁদের পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েনসহ দলটির আরও কয়েকজন নেতাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।


টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিনভর অভিযানে দিল্লির বিভিন্ন স্থান থেকে তিন হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়। এর আগে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে দুপুরের দিকে আটক ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় দুই হাজারে পৌঁছানোর কথা জানানো হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে আটক ব্যক্তির সংখ্যা বেড়েছে বলে এসব প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।


সিজেপির ডাকে দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) এবং ভোটার নিবন্ধনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়।


বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় বৈধ ভোটারদের নাম বাদ পড়ার ঝুঁকি রয়েছে এবং এতে নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা যাচাই ও সংশোধনকে নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করে। ভোটার তালিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।


দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরে সমাবেশের অনুমতি দেয়নি বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। কর্মসূচির আগেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যারিকেড বসানো হয়, যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় এবং বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ২৫ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। পাশাপাশি কয়েকটি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় এবং গণপরিবহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে।


প্রতিবাদে যোগ দিতে যাওয়া অনেককে যন্তর মন্তরে পৌঁছানোর আগেই আটক করা হয়। ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, দলের নেতা সৌরভ দাস ও অশুতোষ রানকাকে মুম্বাই থেকে দিল্লিগামী উড়োজাহাজে পৌঁছানোর পর আটক করা হয় বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাউথ অ্যাভিনিউ এলাকায় অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর পুলিশের হাতে আটক হন। আম আদমি পার্টির আহ্বায়ক ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকেও আটক করা হয়। কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারও আটক হওয়া বিরোধী নেতাদের মধ্যে রয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় পুলিশি তৎপরতা চলার সময় সাংবাদিকদেরও আটক করার খবর পাওয়া গেছে। কয়েকজন সাংবাদিককে পরে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার অধিকার সীমিত করা হয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে সব আটকের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।


ঘটনাটি নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেখা দিয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে অভিযোগ করেছেন, শিক্ষার্থী, আইনজীবী, সাংবাদিক, সামাজিক কর্মী ও কনটেন্ট নির্মাতাদের আটক করে প্রতিবাদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপি নেতারা আন্দোলনের উদ্দেশ্য ও বিরোধীদের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেছেন।


দিল্লির এই ঘটনা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ক্ষমতা প্রয়োগ নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। একদিকে কর্তৃপক্ষ জননিরাপত্তা ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের যুক্তি তুলে ধরেছে, অন্যদিকে বিরোধী দলগুলো বলছে, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার নাগরিকদের রয়েছে।


সিজেপির আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং গণহারে আটকের ঘটনা ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, তাঁদের মুক্তির সময় এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও সরকারি তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা রয়েছে।


তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), এনডিটিভি ও দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।