কবিরহাটে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে, তদন্ত কমিটি গঠন
মোহাম্মদ উল্যা,
নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি॥
নোয়াখালীর কবিরহাটে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের এক ইউনিয়ন সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই সমাজকর্মীর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে অন্য এক নারীর কাছে তিন হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়।
অভিযুক্ত সমাজকর্মীর নাম মফিজুর রহমান। তিনি কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নবগ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অধীনে নরোত্তমপুর, চাপরাশিরহাট, বাটইয়া ইউনিয়ন ও কবিরহাট পৌরসভা এলাকায় সমাজকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) কবিরহাট উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়ে অভিযুক্ত মফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা বলা হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনি নিজেই বলে স্বীকার করেন। তবে ভিডিওতে ধারণ করা ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন তিনি।
মফিজুর রহমানের দাবি, সংশ্লিষ্ট নারী তাঁর পূর্বপরিচিত। একদিন ওই নারী তাঁকে একটি কক্ষে নিয়ে শরবতের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে খাওয়ান। এরপর কী ঘটেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। তবে তাঁর এ বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৪ মিনিট ৪১ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে মফিজুর রহমানকে এক নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায় বলে জানা গেছে। ওই নারী বাটইয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ওই নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। তবে অভিযোগের পক্ষে-বিপক্ষে বক্তব্য, ঘটনার প্রেক্ষাপট এবং ভিডিওর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আরেক নারীর কাছে তিন হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগও উঠেছে এই সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত একটি অডিও কথোপকথনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কথোপকথনে বিকাশের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার প্রসঙ্গ উঠলে তাঁকে নগদে টাকা পরিশোধের কথা বলতে শোনা যায়। তবে অডিওটির সত্যতা ও কথোপকথনের পূর্ণ প্রেক্ষাপট আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কবিরহাট উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অভিযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
নোয়াখালী জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক জেড এম মিজানুর রহমান খান বলেন, অভিযোগ ও ভিডিওর বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। ঘটনাটি তদন্তের জন্য জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন, অর্থ ও প্রতিষ্ঠান শাখা) মোহাম্মদ আবুল কাশেমকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, তদন্ত কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য ও সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্ড ও ভাতা বিতরণে অনিয়ম, ঘুষ দাবি কিংবা কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ জনস্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তবে অভিযোগ ওঠা এবং তা প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। তদন্তের মাধ্যমে ভিডিও ও অডিওর সত্যতা, অভিযোগের প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা জরুরি।
তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নিরূপণ এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।