Columbus, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
এক হালি কমলা নিলামে অর্ধলক্ষ টাকা বিক্রি হাজারীহাট হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে মেধাবীদের বৃত্তি ও সাবেক শিক্ষার্থীর চিকিৎসায় সহায়তা সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ: সাবেক এমপি রেজাউল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা নাসিরনগরে আইএফআইসি ব্যাংকের ৫০ বছর পূর্তিতে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত। ভবিষ্যতের বড় চ্যালেঞ্জ পানি, এখনই সঠিক ব্যবস্থাপনা জরুরি: এলজিআরডি মন্ত্রী দৌলতপুরে মাদ্রাসাছাত্রকে নিপীড়নের অভিযোগ কুড়িগ্রামে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উপলক্ষে রেলি , আলোচনা সভা ও চক্ষু সেবা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত । ভূমি অফিসের সহকারী তহশিলদারের বিরুদ্ধে সাংবাদিককে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ বিশ্ব শিক্ষক দিবসে চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষকদের সমাবেশ শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে ভারতের অবস্থান অপরিবর্তিত, ‘আইনি প্রক্রিয়াতেই’ হবে সিদ্ধান্ত সারা দেশে সাঁড়াশি অভিযান জোরদার, রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গ্রেপ্তার বিকেলে আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম স্ত্রীর মামলায় পুলিশের হাতে আটক শিক্ষক কাইছারুজ্জামান প্রেমিকা এনি পলাতক যশোরে ভাইরাসে নষ্ট বাঁধাকপি ক্ষেত, লোকসানের মুখে কৃষক যশোর সীমান্তে ২৬ লাখ ৬ হাজার টাকার চোরাচালানী মালামাল ও মাদকদ্রব্য জব্দ
হোম › জাতীয় › সারা দেশে সাঁড়াশি অভিযান জোরদার, রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গ্রেপ্তার

সারা দেশে সাঁড়াশি অভিযান জোরদার, রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গ্রেপ্তার

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৮:০১ এএম, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬ 29
সারা দেশে সাঁড়াশি অভিযান জোরদার, রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গ্রেপ্তার

ঢাকা প্রতিনিধি॥


দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ ও সাঁড়াশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় অপরাধপ্রবণতা, মাদক, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।


ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫২৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান।


ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৩৩ জন, লালবাগে ৬৭ জন, ওয়ারীতে ৭৫ জন, মতিঝিলে ৫৩ জন, তেজগাঁওয়ে ৭৩ জন, মিরপুরে ১০২ জন, গুলশানে ৫২ জন, উত্তরা বিভাগে ৬৩ জন, গোয়েন্দা বিভাগে ৯ জন এবং সিটিটিসি বিভাগে একজন রয়েছেন।


অভিযানকালে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, অস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে ৩ কেজি ৫৯০ গ্রাম গাঁজা, ২১৮ পিস ইয়াবা, ২ দশমিক ৬ গ্রাম হেরোইন এবং দুটি চাকু রয়েছে।


এ ছাড়া একটি বাস, নয়টি মোবাইল ফোন, ২ হাজার ৬০০ পিস জাল রেভিনিউ স্ট্যাম্প এবং ৩ হাজার ৩৫৬ পিস নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের ভেজাল ওষুধ ও প্রসাধনী তৈরির উপকরণও অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।


পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন থানার এলাকায় অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ সমন্বিতভাবে এসব অভিযান পরিচালনা করছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মামলায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।


রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন জেলাতেও বিশেষ অভিযান চলছে। নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত জেলার নয়টি থানা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই অভিযানে ১ হাজার ৮৫ জনকে আটক করা হয়েছে।


নোয়াখালী পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৮৫৪ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং ৭১ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


বরিশাল মহানগরীতেও মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আকস্মিক অভিযান চালানো হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা থেকে নগরীর ৩০ গোডাউন, সেলফি রোডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নেন। সন্দেহজনক গতিবিধি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন যানবাহন ও ব্যক্তিকে তল্লাশি করা হয়।


কক্সবাজারেও চুরি, ছিনতাই, মাদক ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ২৪ ঘণ্টার বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই অভিযানে ছিনতাইয়ের অভিযোগে চারজন, সুনির্দিষ্ট অপরাধে ছয়জন, মাদক সেবনের অভিযোগে দুজন এবং আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত পাঁচজনসহ মোট ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


অন্যদিকে সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকাতেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সুন্দরবনে জলদস্যু দমনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের তথ্যও পাওয়া গেছে।


আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এসব তৎপরতার মধ্যে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় চেকপোস্ট, তল্লাশি, টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ বলছে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী কার্যক্রম এবং সন্দেহভাজন অপরাধীদের শনাক্ত করতেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।


সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করেও দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ার কথা বলা হয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তিকে শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, তা প্রতিটি মামলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও আইনগত নথির ভিত্তিতে আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।


পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অপরাধী যে পরিচয়েরই হোক, নির্দিষ্ট অভিযোগ ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।


দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একযোগে অভিযান বাড়ানোর ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে। তবে এসব অভিযানে গ্রেপ্তার ও আটকের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং নাগরিক অধিকার যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।