নাসিরনগরের খাগালিয়া গ্রামে মৎস্য জীবীর জালের গুদামে আগুন, ১৪ লাখ টাকা ক্ষতির দাবি
খ ম জায়েদ হোসেন,
নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় এক মৎস্যজীবী সমিতির নেতার জালের গুদামে আগুন লেগে প্রায় ১৪ লাখ টাকার জাল পুড়ে গেছে।
পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিবেশীরা আগুন দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্ত ভোগী। তবে পুলিশ এখনো অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
ঘটনাটি ঘটেছে ১ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে, নাসিরনগর উপজেলার
ভলাকুট ইউনিয়নের খাগালিয়া (কুড়েরপাড়)
গ্রামে।
ভুক্তভোগী বিনোদ দাস (৪৭) খাগালিয়া পূর্ব মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক। তিনি চিরদিয়া মগলাই ও চিকনদিয়া মেঘনা নদীর কুল
জলমহালের ইজারাদার। এ বছর তিনি ৭ লাখ টাকার নতুন জাল কিনেছিলেন। নতুন-পুরোনো মিলিয়ে প্রায় ১৪ লাখ টাকার জাল তিনি নিজ বাড়ির গুদামে রেখেছিলেন।
শুক্রবার ১ অক্টোবর নাসিরনগর থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে বিনোদ দাস বলেন, ঘটনার রাতে প্রায় ১২টায় তিনি গুদাম তালাবদ্ধ করে ঘুমাতে যান। রাত ১টা ১০ মিনিটে বিদ্যুৎ চলে গেলে তাঁর স্ত্রী কবিতা রাণী দাস টয়লেটে যাওয়ার সময় গুদামে আগুন দেখতে পান। তিনি চিৎকার করে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে কয়েকজনকে দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।
চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। তাঁদের সহায়তায় গুদামের বেড়া কেটে ভেতরে ঢুকে পানি ঢেলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ততক্ষণে গুদামে রাখা প্রায় সব জাল পুড়ে যায়।
অভিযোগে একই গ্রামের ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন,রামু দাস,রুবেল দাস,মনোরঞ্জন দাস,উত্তম দাস,অনন্ত দাস ও সুজন দাস।
এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বিনোদ দাসের দাবি, বিল ইজারা নিয়ে এই ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর পুরোনো বিরোধ রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত বছর তারা তার বাড়িঘর ভাংচুর করেছিলেন। ভয়ে তখন তিনি থানায় যাননি। এবার স্থানীয় মুরব্বি ও আত্মীয়দের সঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে থানায় অভিযোগ দিতে দেরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে নাসিরনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিনুল ইসলাম বলেন,এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।