রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেন তারেক রহমান
নিউইয়র্ক ডেক্স, যুক্তরাষ্ট্র ॥
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর সহযোগিতা চেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের বর্তমান পরিস্থিতি, প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা এবং সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ মিয়ানমারে তৈরি করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ধারাবাহিক ও কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোতে দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট বাংলাদেশের ওপর মানবিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত চাপ তৈরি করেছে। ফলে প্রত্যাবাসনকে শুধু বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বিষয় হিসেবে নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ দায়িত্ব হিসেবেও দেখার আহ্বান জানিয়ে আসছে ঢাকা।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই আয়োজনে দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি থেকে একটি টেকসই সমাধান, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির বিষয় গুরুত্ব পাবে।
এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানও মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে মিয়ানমারের মানবিক পরিস্থিতি, কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের অবস্থা এবং সংকটের মূল কারণ মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়।
জাতিসংঘের চলমান অধিবেশনে রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান কূটনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে উঠে এসেছে।