যুবসমাজের জন্য ভঙ্গুর অর্থনীতি ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ রেখে গেছে পতিত সরকার;তিতুমীর।
তানভীর আজাদ
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ॥
বাংলাদেশের যুবসমাজের জন্য ভঙ্গুর অর্থনীতি ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ রেখে গেছে পতিত সরকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
তিনি বলেন, জনগণের ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা ও অগ্রযাত্রাকে বিবেচনায় না নিয়ে বিগত সরকার নিজেদের পৃষ্ঠপোষকতা ও স্বার্থকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালু রেখেছিল। এর ফলে দেশের অর্থনীতিতে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া কোলাবোরেশন ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও একাডেমিয়ার মধ্যে সহযোগিতা এবং শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার বড় একটি অংশ কর্মক্ষম বয়সের। বিশাল এই যুব জনগোষ্ঠীকে দক্ষতা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে কাজে লাগানো গেলে জনমিতিক লভ্যাংশের সুফল পাওয়া সম্ভব। কিন্তু নানা নীতি ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার কারণে সেই সম্ভাবনার যথাযথ ব্যবহার হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি জানান, ২০২২ সালের হিসাবে দেশের প্রায় ৪১ শতাংশ তরুণ শিক্ষা, কর্মসংস্থান কিংবা প্রশিক্ষণের বাইরে ছিল। এই জনগোষ্ঠীর ৬২ শতাংশই নারী বলে তিনি উল্লেখ করেন। তরুণদের একটি বড় অংশকে উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডের বাইরে রাখায় দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও বক্তব্যে উঠে আসে।
খেলাপি ঋণের পরিসংখ্যান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা। তাঁর দাবি, প্রকৃত খেলাপি ঋণের হার ৩৫ দশমিক ৭ শতাংশ হলেও তা ১১ শতাংশ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই হার ৩২ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে বলে তিনি জানান।
দেশের কর-জিডিপি অনুপাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিতুমীর বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখনও নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। একই সঙ্গে বিগত সময়ের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের কাছে রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. এমতাজ হোসেন ও কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ইদ্রিস আলী। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. আতিকুর রহমান।
সেমিনারে প্রাণ-আরএফএল, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, আনোয়ার গ্রুপ, আবুল খায়ের গ্রুপ, গ্রামীণফোন, বিকাশ, বিআরবি কুষ্টিয়া, ব্র্যাক, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, নেসলে বাংলাদেশ, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, ম্যাটাডোর ডিস্ট্রিবিউশনসহ দেশের প্রায় ২৭টি শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।