হাম-জাতীয় উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু, বাংলাদেশে মোট মৃত্যু ১ হাজার ৯৯
ঢাকা প্রতিনিধি
বাংলাদেশে হাম পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হাম-জাতীয় উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত নতুন এই মৃত্যুর ফলে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন হাম-সংক্রান্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৯ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, মোট মৃত্যুর মধ্যে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু ১০১টি এবং সন্দেহভাজন হাম বা হাম-জাতীয় উপসর্গে মৃত্যু ৯৯৮টি। একই সময়ে দেশে নতুন করে ১ হাজার ২১৪টি সন্দেহভাজন হাম আক্রান্তের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এতে চলতি প্রাদুর্ভাবে সন্দেহভাজন রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৫৫ জনে।
এ সময় নতুন করে ১০১টি পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম আক্রান্তের ঘটনাও শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে দেশে নিশ্চিত হাম আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২১ হাজার ৩০৮।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম আক্রান্ত ১ লাখ ৬৭ হাজার ৪৬৯ জনকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৬০ হাজার ৭০৫ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা হাম মোকাবিলায় টিকাদান কর্মসূচি আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা এবং দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টিকাদানের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টিকাদানের বাইরে থাকা শিশুদের শনাক্ত করে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চা-বাগান, হাওর এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতার ঘাটতি ও স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকারের সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
হামের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে টিকাদানের পাশাপাশি দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসা এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানোকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।