কোম্পানীগঞ্জে বাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ, মা-বাবাকে মারধরের দাবি
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি মা-বাবাকে মারধর এবং স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাবেক পরিদর্শক উৎপল মজুমদার ও তাঁর দুই ভাতিজার বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছেন উৎপল মজুমদার।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে চরপার্বতী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কদমতলা এলাকার কালিতলায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ওই এলাকার বাসিন্দা শিমুল মজুমদার ও তাঁর বাবা ত্রিবঙ্গ মজুমদার। অভিযুক্তদের বাড়ির পাশেই তাঁদের বসবাস।
সংবাদ সম্মেলনে শিমুল মজুমদার অভিযোগ করেন, শুক্রবার বিকেলে গলার চিকিৎসার জন্য তিনি মাইজদীতে গেলে তাঁর অনুপস্থিতির সুযোগে উৎপল মজুমদার ও তাঁর দুই ভাতিজা অনাথ মজুমদার ও ভূবেশ মজুমদার তাঁদের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় তাঁর মা-বাবাকে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে তিনি রাতে বাড়িতে ফিরে কোম্পানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শনিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর সন্ধ্যার দিকে মুখোশধারী একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের বাড়িতে ফের হামলা চালায়। এ সময় ঘরবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। হামলাকারীদের ভয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘরের এক কোণে আশ্রয় নেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
শিমুল মজুমদারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে উৎপল মজুমদার ও তাঁর স্বজনদের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ চলে আসছে এবং এর আগেও তাঁদের ওপর হামলা ও হুমকির ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জানান তিনি।
শিমুলের বাবা ত্রিবঙ্গ মজুমদার অভিযোগ করেন, শুক্রবারের হামলার সময় তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে মারধর করা হয়। একই সময় তাঁর পুত্রবধূর গলার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন ত্রিবঙ্গ মজুমদার।
তবে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উৎপল মজুমদার। তিনি বলেন, ‘এ হামলার বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। শিমুল নিজেই নিজের বাড়িতে হামলা করে আমাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।’
কোম্পানীগঞ্জ থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আবু কাউছার বলেন, ‘হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।





