ফটিকছড়িতে রেস্তোরাঁয় খাবার আগে দেওয়া নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৩, সড়ক অবরোধ
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে রেস্তোরাঁয় খাবার আগে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের তিনজন ছুরিকাঘাত ও দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের জেরে প্রায় এক ঘণ্টা হেয়াকো-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন একটি পক্ষের নেতা-কর্মীরা।
শনিবার (৭ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের হেয়াকো বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। একটি পক্ষ স্থানীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের এবং অপর পক্ষটি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আজিম উল্লাহ বাহারের অনুসারী।
রাতে হেয়াকো বাজারের সিকদারখীল এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খেতে ঢোকেন মোহাম্মদ কবির ও নাছির উদ্দিন। নাছির উদ্দিন এলাকায় সংসদ সদস্যের অনুসারী এবং মোহাম্মদ কবির আজিম উল্লাহ বাহারের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। দুজনেই আগে খাবার দিতে বললে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তর্ক হয়, পরে দুজন মারামারিতে জড়ান। খবর পেয়ে দুই পক্ষের অনুসারীরা জড়ো হলে তাঁদের মধ্যেও সংঘর্ষ বাধে।
আহতদের মধ্যে মোহাম্মদ কবিরের অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে রামগড়ের একটি হাসপাতালে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। নাছির উদ্দিন ও তাঁর ভাতিজাকেও চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আজিম উল্লাহ বাহার প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর কর্মী মোহাম্মদ কবিরকে সালিস বৈঠকে ডেকে নিয়ে হামলা করে মারধর করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার বিচার চান।
অন্যদিকে সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুজনের মধ্যে মারামারি হয়েছে। এখানে কোনো পক্ষ-বিপক্ষের দ্বন্দ্ব নেই। ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।
ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে জানান, দুই পক্ষের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর সংসদ সদস্যের অনুসারীরা সড়ক অবরোধ করেন। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং অবরোধ তুলে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
ছবি: সংগৃহীত





