ম্যানারস শিখানোর নামে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন র্যাগিং চলবে না-উপাচার্য
নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলী বলেছেন, জুনিয়রদের আইসক্রিম দিতে পারবেন, কেক খাওয়াতে পারবেন, বন্ধুত্ব করতে পারবেন, রাতের অন্ধকারে ডেকে নিয়ে যে মেনারিজম শিখাবেন, আমি কিন্তু সদা প্রস্তুত থাকব, গাড়ি নিয়ে সেই ম্যাচেই কিন্তু যাব। যিনি করবেন, ছাত্রত্ব বাতিল থেকে বিধি মোতাবেক যা যা করা যায়, প্রয়োজনে মামলা করে তাদেরকে কোর্ট দিয়ে সেগুলা ব্যবস্থা করব। কিন্তু কোন জুনিয়রকে র্যাগিংয়ের শিকার হতে দিবো না। র্যাগিংয়ের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করবে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়। নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্যানারস শিখানোর নামে কোন র্যাগিং চলবে না।
রোববার দুপুরে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্রথম সেমিস্টারের কোর্স সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলী বলেন, আমরা একটা মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করতে চাই। আমরা একটা নতুন মডেল বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করতে চাই। যে বিশ্ববিদ্যালয় সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়কে আঙুল দিয়ে দেখাবে যে আমরা মেধাবীদের একটি ক্ষেত্র পরিণত করেছি। গবেষণা করার জন্য ডিজিটাল লাইব্রেরি এখানে আছে। আমার কলিগরা আছেন, আমি অনুরোধ করব তাদের গবেষণা কার্যক্রমগুলো সাইড বাই সাইড বাই চালু রাখার। আমাদের পক্ষ থেকে যত সহযোগিতা লাগে, আমরা ইনশাল্লাহ করব।
তিনি বলেন, নওগাঁর মানুষ যে আস্থা আমাদের প্রতি রেখেছে, এখন আমাদের দ্বিতীয় কাজটি হলো নওগাঁর মানুষের আস্থার মূল্য দেওয়া। তা অর্জনের জন্য আমাদেরকে ২০২৭ সালের মধ্যে জমি একোয়ার, ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, বাউন্ডারি ওয়াল, যে পাঁচটা ইউনিক ভবন আমরা তৈরি করব, তাতে আমাদেরকে হাত দিতে হবে। আমি আপনাদের মাধ্যমে সদাসয় সরকার, যে সরকার প্রথমবারের মতো ৫৪ বছরের বাংলাদেশের বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়ে শিক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করেছেন। সেই সরকারের কাছে আমি অনুরোধ করতে চাই, আমরা যে ডিপিবিটা জমা দিয়েছি এবং আমরা আশা করতে চাই যে সদাসয় সরকার এই নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের বা এই নওগাঁ মানুষের স্বপ্ন পূরণে এই প্রজেক্ট দ্রুত অনুমোদন করে আমাদের এই কাজ করার সুযোগ দেবেন।
তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমার আস্থা ও বিশ্বাস আছে। কেন না উনার সাথে যখনই দেখা হয়, উনি খবর নেন বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে। আমাদের সিন্ডিকেট মেম্বার, আমাদের বগুড়ার কৃতি সন্তান, মীর শাহে আলম প্রতিনিয়ত খবর নেন যে নওগাঁকে একটা ভালো মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে হবে। ইউজিসি মন্ত্রণালয়ে অনেক সময় বলে যে আপনারা নওগাঁ যান যে দেখে আসেন কিভাবে কাজগুলো করছে। আলহামদুলিল্লাহ, আমি আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া যে, এই নওগাঁবাসীর প্রতি যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া ছিল, তা পূরণে আমরা একটু একটু করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।
এ সময় অনুষ্ঠানে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড.মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, বগুড়ার কাহালু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মালিহা খানম, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সানজিদা কবির, আইন বিভাগের প্রভাষক জাহিদুল ইসলাম সৌরভসহ শিক্ষার্থীরা অনুভূতি ব্যক্ত করেন।






