কুড়িগ্রাম রাজারহাটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরলেন বক্তারা
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে বিশাল মিছিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এর আগে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়কপথে বর্ণাঢ্য মিছিলে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজারহাটের রাজপথ।
কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ-এর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজারহাট উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোঃ শফিকুল ইসলাম। সভা সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ সাইদুল ইসলাম।
সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ শহিদুল ইসলাম বেপারী, মোঃ আব্দুর রাজ্জাক রাজ, যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ জাকির হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ নজরুল ইসলাম, রাজারহাট যুবদলের আহ্বায়ক মোঃ আব্দুল কুদ্দুস, যুবদলের সদস্য সচিব নয়ন আলী, রাজারহাট উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোঃ আনিছুর রহমান লিটন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মোঃ রুবেল চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সদস্য মোঃ আসাদুজ্জামান টিটু, রাজারহাট সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ আশিকুর রহমান টুটুল, ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ রোম্মান হোসেন রোম্মান, বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন থেকে শহিদুল ইসলাম খোকন, চাকরিপশার ইউনিয়ন বিএনপি থেকে মোঃ রাজু আহমেদ, নাজিমখাঁন ইউনিয়ন বিএনপির মোঃ রবিউল আলম বকশি, উমরমজিদ ইউনিয়নের মোঃ শামসুল আলম, ছিনাই ইউনিয়নের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিজান, রাজারহাট উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রুবেল পাটোয়ারী, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোঃ মিজানুর রহমান সাদ্দাম, সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ ফরহাদ হোসেন সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ নিজামুল ইসলাম নাসিম।
অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট, তাৎপর্য ও জাতীয় জীবনে এর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে জাতীয় দিবসগুলোর গুরুত্ব অনেক সময় আড়ালে পড়ে যায়। এতে নতুন প্রজন্ম দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অনেক ঘটনা সম্পর্কে জানার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। তাই জাতীয় দিবসগুলোর তাৎপর্য ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন।
বক্তারা বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশে একের পর এক অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের ঘটনা ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর তৎকালীন ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে পাল্টা অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এ সময় তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সেনানিবাসে গৃহবন্দি করা হয়। পরবর্তী সময়ে ৬ নভেম্বর দিবাগত রাতে সিপাহি ও জনতার সম্মিলিত অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এ ঘটনা ‘সিপাহি-জনতার বিপ্লব’ হিসেবে পরিচিত। মুক্ত হওয়ার পর জিয়াউর রহমান জাতির উদ্দেশে বক্তব্য দেন; তাঁর বক্তব্যের শুরুতে ‘আমি জিয়াউর রহমান বলছি’ কথাটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়।
বক্তারা আরও বলেন, ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে আসে। পরবর্তী সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন এবং দেশে বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। ঐতিহাসিক এ দিনের তাৎপর্য ও প্রেক্ষাপট যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপরও তাঁরা গুরুত্বারোপ করেন।





