তারল্যসংকটে থাকা ব্যাংকে চট্টগ্রাম বন্দরের আমানত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ সংসদীয় কমিটির
তারল্যসংকটে থাকা বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের স্থায়ী আমানত (এফডিআর) রাখা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান-সম্পর্কিত কমিটি। মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও আমানত তুলে না নেওয়া এবং নীতিমালার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।
রোববার (৮ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিরের সভাপতিত্বে কমিটির বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সব অর্থ সরকারি ব্যাংকে রাখার সুপারিশও করা হয়েছে।
বৈঠকে জানানো হয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মোট এফডিআর ১১ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে পদ্মা ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক—তারল্যসংকটে থাকা এই ছয় ব্যাংকে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে, যা ফেরত পাওয়া নিয়ে ঝুঁকি রয়েছে।
তৎকালীন নিয়ম অনুযায়ী মোট আমানতের ৭৫ শতাংশ সরকারি এবং ২৫ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার কথা ছিল; বেসরকারি ব্যাংকের ক্ষেত্রে অন্তত পাঁচ বছরের পুরোনো ও সুনামসম্পন্ন হওয়ার শর্ত ছিল। নিরীক্ষা আপত্তিতে বলা হয়েছে, এসব নিয়ম মানা হয়নি। বন্দর কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, পরে নিয়ম বদলে অনুপাত ৫০:৫০ করা হয়; কমিটি পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে।
বৈঠকে সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ, অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি, বন্দরে কনটেইনার চুরির ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা, আমদানি-রপ্তানিতে ওভার ও আন্ডার-ইনভয়েসিং ঠেকাতে প্রযুক্তি ব্যবহার এবং নিলামযোগ্য কনটেইনার ও যানবাহনের সমস্যা ডিসেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তিরও সুপারিশ করা হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর। ছবি: Moheen Reeyad / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)





