মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা-ভাঙচুর: পুলিশ পাহারায় ফের শুরু টিকাদান, তদন্তে পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ
ঢাকা প্রতিনিধি
রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকায় রাড্ডা মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য-পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও আংশিক স্থাপনা ধ্বংসের ঘটনায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। হামলার পর সোমবারও কেন্দ্রটিতে পুলিশ পাহারায় টিকাদান কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর ভোররাতে একদল ব্যক্তি রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঢুকে হামলা চালায়। মামলার নথি অনুযায়ী, হামলাকারীদের হাতে হাতুড়ি, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র ছিল। পরে একটি কক্ষ ভেঙে ফেলার জন্য এক্সকাভেটর ব্যবহার করা হয়। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিবার পরিকল্পনা, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, টিকাদান ও পরীক্ষাগার বিভাগের বিভিন্ন স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনার সময় কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী লুটের পাশাপাশি দুটি আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন, জেনারেটর, কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফ্রিজ, এসি ও স্টিলের আলমারিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় করা মামলায় ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। তদন্তের পাশাপাশি হামলার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি ও ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একটি পুলিশ তদন্তে ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা সদস্যদের গাফিলতির বিষয়টি উঠে এসেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পরে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তও এসেছে।
হামলার পর স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হলেও শিশুদের টিকাদান বন্ধ রাখা হয়নি। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ মোতায়েন করে সেবা চালু রাখা হয়েছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ, হামলার পেছনে কারা ছিল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্থাপনা ও সরঞ্জাম লুটপাটের সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয় এখন তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করার কথা রয়েছে।