প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আলোচনা, ‘দুই দেশের সব সমস্যা সমাধান সম্ভব’: ভারতীয় হাইকমিশনার
ঢাকা প্রতিনিধি
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এবং দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে বৈঠক হলে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে সমাধানের পথ বের করা সম্ভব।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভারতীয় হাইকমিশনার দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে এ মন্তব্য করেন। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলেও তিনি জানান।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এমন কোনো বিষয় নেই, যা দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে বসে আলোচনা করলে সমাধান করা সম্ভব নয়। তাঁর বক্তব্যে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে এর আগে দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। তবে ভারতীয় হাইকমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, সফরের বিষয়ে কোনো তাড়াহুড়া নেই এবং সময় ও কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য, পানি বণ্টন, যোগাযোগ, নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান ও তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবিও সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম সংবেদনশীল ইস্যু হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর দাবি জানানো হলেও ভারত জানিয়েছে, বিষয়টি তাদের প্রতিষ্ঠিত আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। একই সময়ে দুই দেশ অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় বিষয়েও যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর হলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হতে পারে বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক ও কার্যকর রাখার ক্ষেত্রে শীর্ষ পর্যায়ের সরাসরি যোগাযোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে এখন পর্যন্ত সফরের তারিখ বা আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি। ফলে সম্ভাব্য সফরে কোন কোন বিষয় অগ্রাধিকার পাবে এবং কোনো নির্দিষ্ট সমঝোতা বা সিদ্ধান্ত হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যের পর এখন নজর থাকবে ঢাকা ও নয়াদিল্লির পরবর্তী কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের সময়সূচির দিকে।