রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় এমপির ভূমিকা তদন্তাধীন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ঢাকা প্রতিনিধি
রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙচুর, লুটপাট ও গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় এক সংসদ সদস্যের কথিত সম্পৃক্ততা তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম প্রকাশ না করলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম উঠে এসেছে। তবে ওই অভিযোগ তিনি আগেই অস্বীকার করেছেন।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে গত শুক্রবার ভোরে হামলা চালিয়ে স্থাপনা ভাঙচুর ও বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। হামলার সময় ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের একটি টিনশেড স্থাপনা এবং তিনটি আধা-পাকা ভবন ভেঙে ফেলা হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিভিন্ন কক্ষ থেকে আসবাবপত্র, ওষুধ, আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন, জেনারেটর, কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফ্রিজ ও এসিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও ওঠে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, এতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির এক কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ইতোমধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম গাজীও রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও দখলসংক্রান্ত বিরোধের অভিযোগ রয়েছে। হামলার সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গায় সমিতির নামে একটি সাইনবোর্ডও টানানো হয়েছিল বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ভাঙচুরের পর স্থানীয় মানুষের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হামলার ঘটনায় কারা পরিকল্পনা করেছে, কারা সরাসরি অংশ নিয়েছে এবং কোনো রাজনৈতিক বা স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি এতে জড়িত ছিলেন কি না—এসব বিষয় এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্তে যারই সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।