৭৫১ কোটি টাকার মুছাপুর রেগুলেটর প্রকল্প অনুমোদন: কোম্পানীগঞ্জে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ
মোহাম্মদ উল্যা
নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদীর অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নে ৭৫১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান।
প্রকল্পটি অনুমোদনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুরে স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দেয়। পরে মুছাপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে মুছাপুর ক্লোজার এলাকায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
এ সময় বিএনপি নেতা আফতাব আহম্মদ বাচ্ছু, আনিছুল হক (এমএ), মাস্টার আবু নাছের, একরামুল হক মিলন মেম্বার, আলমগীর হোসেন মিয়া, আলী আজগর (জাহাঙ্গীর মেম্বার), আলা উদ্দীন জিকু, মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্প অনুমোদনের প্রতিক্রিয়ায় নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মো. গোলাম মোমিত ফয়সাল বলেন, মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ সমন্বিত নদী ও পানি ব্যবস্থাপনার এ উদ্যোগ উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দ্রুত কাজ শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙন, বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমার পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নতি হবে। একই সঙ্গে কৃষি, মৎস্য ও স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট প্রবল বর্ষণ ও উজানের ঢলে কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুরে অবস্থিত ২৩ ভেন্টের রেগুলেটরটি ভেঙে যায়। এরপর থেকে ছোট ফেনী নদী ও আশপাশের এলাকায় নদীভাঙন, বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। রেগুলেটরটি পুনর্নির্মাণ এবং নদী ব্যবস্থাপনা ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের মধ্যে প্রত্যাশা ছিল।
প্রকল্পটি অনুমোদনের ফলে মুছাপুর রেগুলেটর পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি বৃহত্তর এলাকায় সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে প্রকল্পের সুফল নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতা, গুণগত মান বজায় রাখা এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।