বনে খাবারের সংকট, কাপ্তাইয়ে লোকালয়ে নামছে বন্য হাতির দল; রাতে আতঙ্কে বাসিন্দারা
রাঙামাটির কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে তীব্র খাদ্যসংকটে পড়েছে এশীয় হাতি। রোগে বাঁশ ও ঝোপঝাড় নষ্ট হয়ে যাওয়া এবং বন থেকে মানুষের লতাপাতা ও খাওয়ার উপযোগী গাছ সংগ্রহের কারণে হাতির খাবার কমে গেছে। ফলে খাবারের খোঁজে হাতির দল ক্রমেই আশপাশের লোকালয়ে নেমে আসছে, বাড়ছে মানুষ-হাতি সংঘাতের ঝুঁকি।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রাচীনতম সংরক্ষিত বনগুলোর একটি প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে বর্তমানে ৪০ থেকে ৪৫টি হাতি আছে, যার মধ্যে ছয়-সাতটি শাবক।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে হাতি লোকালয়ে খুব কমই আসত, এখন প্রায়ই আসছে। জীবতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুদত্ত চাকমা বলেন, রাতে হাতি ঘোরাফেরা করলে ঘুমানো যায় না; সন্ধ্যার পর ভয়ে কেউ ঘর থেকে বের হন না।
কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মামুনুর রহমান বলেন, প্রাকৃতিক আবাসে পর্যাপ্ত খাবার থাকলে হাতি সাধারণত লোকালয় এড়িয়ে চলে। হাতির বিষ্ঠা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, তারা মূলত ঘাসজাতীয় খাবার খাচ্ছে; বাঁশ ও বাঁশপাতা তাদের বিশেষ পছন্দ। খাদ্যসংকট মোকাবিলায় হাতির চলাচলের এলাকায় ফলের বাগান ও বাঁশ বাগান করা হচ্ছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এম এ আজিজ বলেন, একটি প্রাপ্তবয়স্ক হাতির প্রতিদিন প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ কেজি খাবার ও প্রায় ১৫০ লিটার পানি লাগে। বাগান করার উদ্যোগ সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, তবে বনের প্রাকৃতিক খাদ্য উৎস রক্ষা করাই বেশি জরুরি।
এদিকে পাহাড়ের খবরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাতি ঠেকাতে ২০২৩ সালে কাপ্তাই রেঞ্জে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে বসানো আট কিলোমিটার দীর্ঘ সোলার বৈদ্যুতিক বেড়ার বেশির ভাগ অংশই এখন অকার্যকর। তার ছিঁড়ে যাওয়া, ব্যাটারি ও সরঞ্জাম চুরি এবং ঝড়ে ক্ষতির কারণে বেড়াটি কাজ করছে না। গত এক দশকে কাপ্তাই এলাকায় বন্য হাতির আক্রমণে ১২ থেকে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ফাইল ছবি: বাংলাদেশের বন্য এশীয় হাতি — Ayman Nakib Badhan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)





