বাসের ভাড়া বৃদ্ধিতে মানা হচ্ছে না সরকারি নির্ধারিত হার
মাহিদুল ইসলাম
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
বাংলাদেশে সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বৃদ্ধি করেছে। এরপর থেকে মৌলভীবাজারে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের মাঝে। তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় লেগেছে। বিশেষ করে যারা প্রতিদিন বাসে করে কর্মস্থলে যাতায়াত করতেন তাদেরকে প্রতিদিন দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। বেশিরভাগ জায়গায় মানা হচ্ছে না সরকার নির্ধারিত বৃদ্ধির হার।
জেলার বিভিন্ন কর্মজীবি মানুষেরা জানান, অধিকাংশ কর্মজীবি মানুষ এখনও বাসে করে কর্মস্থলে যাতায়াত করেন। হঠাৎ করে ১০০ টাকার ভাড়া ১৩০ টাকা হয়ে গেছে। এতে করে চরম অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা আয়ের চেয়ে ব্যায় বেড়ে যাওয়ায় হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাসের ভাড়া সরকার প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বৃদ্ধি করেছে অথচ এই হার কেউ মানে চলেছে না।
খুঁজ নিয়ে জানা যায়, মৌলভীবাজার থেকে ঢাকায় ৫৮০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৬৫০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া এসি বাসে ১০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। অথচ মৌলভীবাজার থেকে ঢাকার দূরত্ব হচ্ছে প্রায় ২০০ কিলোমিটার সেখানে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৩৪ টাকা ভাড়া বাড়ানোর কথা থাকলেও ৮০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল শহর থেকে সিলেট পর্যন্ত বাসের পূর্বের ভাড়া ছিল ১৭০ টাকা যা এখন ৩০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকা করা হয়েছে। এসি বাসে পূর্বের ২০০ টাকা থেকে ৫০ টাকা ভাড়া বৃদ্ধি করে ২৫০ টাকা করা হয়েছে। যা সরকারের নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি। এভাবে জেলার প্রতিটি বাসের বাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। সরকারের নির্ধারিত হার কেউ মেনে চলছেন না।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন সেজু আহমেদ, তিনি বলেন হঠাৎ করে তেলের দাম বৃদ্ধির পর বাসের ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। গাড়িভাড়া বেড়ে যাওয়ার কারণে প্রতি মাসে আমার ৩ হাজার টাকা বেশি খরচ হবে। অথচ আমাদের বেতন বৃদ্ধি হয়নি। কিভাবে চাকরি করবো আর পরিবার চালাবো তা বুঝতে পারছি না। পরিবহন খাতের সবাই যারযার মতো করে ভাড়া বৃদ্ধি করেছেন।
মৌলভীবাজার বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন বলেন, সরকার নির্ধারিত হারে বাসের বাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর বাহিরে মৌলভীবাজারে কেউ বেশি ভাড়া নিতে পারবেন না। তিনি আরও বলেন, ভাড়ার বিষয়টি দেখাশোনার জন্য দেশে আলাদা একটি বোর্ড আছে। তাঁরা বিষয়টি দেখেন।