কুড়িগ্রাম রাজারহাট উপজেলায় সংগ্রাম নিয়েই যার জীবন সাবেক মেধাবী ছাত্রনেতা শহিদুল ইসলাম ব্যাপারী
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে বুকে ধারণ করে এবং মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় সংগ্রাম নিয়েই যার জীবন সাবেক মেধাবী ছাত্র নেতা শহিদুল ইসলাম ব্যাপারী। ১৯৯৭ইং সালে মীর ইসমাইল হোসেন ডিগ্রি কলেজের ছাত্র অবস্থায় ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে শহিদুল ইসলাম ব্যাপারী ছাত্রদল কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯৯ইং সালে মীর ইসমাইল হোসেন ডিগ্রি কলেজ থেকে থেকে পরীক্ষা কেন্দ্র বাতিল করে কুড়িগ্রাম নিয়ে আসায় শিক্ষার্থীরা ভোগান্তির মুখে পড়ে। এ রকম পরিস্থিতিতে মীর ইসমাইল হোসেন ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীরা একযোগে আন্দোলন সংগ্রামের ঘোষণা দেয়। তৎকালীন সময়ে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করলে উক্ত কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে শহিদুল ইসলাম ব্যাপারী মনোনীত হন এবং তার নেতৃত্বে রাজারহাটে ছাত্র আন্দোলন গড়ে উঠে। আন্দোলন করতে গিয়ে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম ব্যাপারী একাধিক মিথ্যা মামলার আসামী হয়ে ৯৬ দিন কারাবরণ করেন। আন্দোলন পরবর্তী ছাত্রদের দাবির প্রেক্ষিতে মীর ইসমাইল হোসেন ডিগ্রি কলেজে পরীক্ষা কেন্দ্র পুনঃর্বহাল করা হয়। কারা ভোগের পর মুক্তি লাভ করলে ছাত্র নেতা শহিদুল ইসলাম ব্যাপারী ১৯৯৯ সালের শেষের দিকে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ২০০১ সালে তিনি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক মনোনীত হন। তিনি ২০০৩ সালে রাজারহাট উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মনোনীত হন। ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত রাজারহাট সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন। একই বছর তিনি রাজারহাট উপজেলা যুবদলের কাউন্সিলে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে সারাদেশের ন্যায় রাজারহাটে আন্দোলন সংগ্রামে ব্যাপক ভূমিকা রাখায় তিনি তৎকালীন সময়ে একাধিক মামলার আসামী হন এবং আদালতে জামিন নিতে গিয়ে আদালত চত্ত্বরেই ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসীদের দ্বারা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। ২০১৬ইং সালে রাজারহাট উপজেলা বিএনপির কাউন্সিল হলে তিনি ২নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন। ২০১৮ইং সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৬, কুড়িগ্রাম-২ আসনে বিএনপি জোটের মনোনীত প্রার্থী মেজর জেনারেল আমসা-আ-আমিনের পক্ষে নির্বাচনী কাজ করতে গিয়ে রাজারহাট হাসপাতাল রেলগেটে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসী দ্বারা শারীরিক নির্যাতন সহ তার ব্যক্তিগত ব্যবহার করা পালসার মটর সাইকেল ভাংচুর করে দেয়া হয়। ওই নির্বাচনের দিন ৩০ ডিসেম্বর দুপুরে ভোট কেন্দ্রে আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসী কর্তৃক ব্যালট ছিনতাই প্রতিরোধ করতে গিয়ে তিনি পুলিশি নির্যাতনের শিকার হন। ২০২১ সালে রাজারহাট উপজেলা বিএনপির কাউন্সিল হলে তিনি সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং একই বছর তিনি বিএনপির মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী গণসংযোগ শুরু করেন। ২০২১ ইউপি নির্বাচনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের আলোকে নির্বাচন থেকে বিএনপি অংশ না নেয়ার ঘোষণা দেয়ায় তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। একই বছর তিনি স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে পুনরায় নির্বাচনে অংশ নিয়ে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন এবং ইউপি সদস্যদের ভোটে তিনি প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তৎকালীন সময়ে রাজারহাট সদর ইউনিয়নে নৌকা মার্কার নির্বাচিত চেয়ারম্যান এনামুল হক পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিলে এবং ইউপি সদস্যদের সাথে সব সময় খারাপ ব্যবহার করলে একপর্যায়ে প্যানেল চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম ব্যাপারীর নেতৃত্বে ইউপি সদস্যরা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১৯/০৪/২০২৩ইং অনাস্থা প্রস্তাব আনে। ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনিত অনাস্থা প্রস্তাবের সমর্থনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। অনাস্থা ভোটে ১০টি ভোট অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে জয় লাভ করে। অনাস্থা ভোটের ফলাফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু নৌকা মার্কার নির্বাচিত চেয়ারম্যান হওয়ায় ইউপি সদস্যদের অনাস্থা প্রস্তাব এবং ভোটের রায় প্রশাসনের যোগসাজসে উপেক্ষা করা হয়। ২০২৪ সালে ছাত্র জনতার জুলাই আন্দোলনে শহিদুল ইসলাম ব্যাপারী সক্রিয় অংশ নিয়ে ছাত্র জনতাকে সাথে নিয়ে রাজারহাটে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলেন। ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিলে দেশব্যাপী গণমানুষের আন্দোলন সফল হয়। সারাদেশের ন্যায় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা রাজারহাটেও আত্মগোপনে চলে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় নৌকা মার্কার চেয়ারম্যান এনামুল হক নিজের জীবনের ভয়ে উপজেলা পরিষদ আসা বন্ধ করেন। অর্ন্তবর্তী সরকার রাজারহাট সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের শূন্যতায় প্রশাসক নিয়োগ করে এবং সাধারণ ভাবে রাজারহাট সদর ইউনিয়নে দুর্নীতিমুক্ত জনবান্ধব পরিষদ গঠনে প্যানেল চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম ব্যাপারী তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০২৫ সালে রাজারহাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দিলে উক্ত কমিটিতে শহিদুল ইসলাম ব্যাপারী যুগ্ম আহ্বায়ক মনোনীত হন। তিনি বর্ণাঢ্যময় সংগ্রামের মধ্যদিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে নিজের শক্তভিত গড়ে তুলেছেন।