কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ, থানায় অবস্থান এনসিপি নেতাকর্মীদের।
তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | New York Voice Bangla
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ার লালন শাহ মাজার এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার গাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে লালন শাহ মাজার থেকে বের হওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, মাজার থেকে বের হয়ে ভক্তদের সঙ্গে ছবি তোলার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে লক্ষ্য করে এক ব্যক্তি ডিম ছুড়ে মারেন। পরে তাকে ও তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ ওঠে। প্রায় ৩০ মিনিট পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
এদিকে ঘটনার আগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে কয়েকজনকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের ‘ধর, ধর’ বলে তাড়া করতে দেখা যায়।
এ ঘটনায় এনসিপির নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটি তার ওপর পঞ্চম হামলা।
হাসনাত আবদুল্লাহ তার পোস্টে বলেন, বারবার হামলা, ভয়ভীতি বা দমন-পীড়নের মাধ্যমে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কণ্ঠ স্তব্ধ করা যাবে না। ন্যায়, অধিকার ও আজাদীর আন্দোলন কোনো বাধায় থামবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লালন মাজারে এসেছিলেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। সেখানে তার সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
ওসি বলেন, হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত ২২ মে জুমার নামাজের পর ঝিনাইদহ পৌর কালেক্টরেট জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও তার নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া গত ২৮ জুলাই হবিগঞ্জ শহরের স্টাফ কোয়ার্টার, সোনালী ব্যাংক ও সার্কিট হাউস এলাকায়ও তার ওপর হামলার অভিযোগ করা হয়েছিল।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ এনসিপির নেতাকর্মীরা কুমারখালী থানায় অবস্থান করছিলেন এবং ঘটনার বিষয়ে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
তবে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় ও ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।