তা’লীমুল কুরআন ফাউন্ডেশনের মুয়াল্লিম-মুয়াল্লিমা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো নোয়াখালীতে
কুরআনের শিক্ষা বিস্তার ও আদর্শ সমাজ গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা জোরদারের আহ্বান
পবিত্র কুরআনের শিক্ষা সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়া, সহিহ তিলাওয়াতের প্রসার এবং নৈতিক ও আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে মুয়াল্লিম-মুয়াল্লিমাদের ভূমিকা আরও জোরদারের আহ্বানের মধ্য দিয়ে নোয়াখালীতে মুয়াল্লিম ও মুয়াল্লিমা সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে তা'লীমুল কুরআন ফাউন্ডেশন, নোয়াখালী জেলা শাখার আয়োজনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ফাউন্ডেশনের মুয়াল্লিম, মুয়াল্লিমা, উপদেষ্টা ও দায়িত্বশীলরা অংশ নেন।
সম্মেলনে প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তা'লীমুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তা'লীমুল কুরআন ফাউন্ডেশন নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চলের সমন্বয়ক মাওলানা আলা উদ্দিন, নোয়াখালী জেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা ইসহাক খন্দকার, কেন্দ্রীয় প্রধান উস্তাদ আবদুর রহিম, জেলা উপদেষ্টা মাওলানা সাঈদ আহমেদ, মাওলানা বোরহান উদ্দিন ও মাওলানা মেছবাহ উদ্দিন। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ের উপদেষ্টা ও দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন তা'লীমুল কুরআন ফাউন্ডেশন, নোয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা ছাইফ উল্লাহ।
বক্তারা বলেন, কুরআন শুধু তিলাওয়াতের জন্য নয়; এর শিক্ষা ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সমাজব্যবস্থায় বাস্তবায়নের মধ্যেই রয়েছে প্রকৃত কল্যাণ। শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মকে শুদ্ধভাবে কুরআন শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের নৈতিক মূল্যবোধ, মানবিকতা ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে মুয়াল্লিম-মুয়াল্লিমাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তারা আরও বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তিত সমাজব্যবস্থায় নতুন প্রজন্ম নানা ধরনের নৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সঠিক শিক্ষা, চরিত্র গঠন এবং মানবিক মূল্যবোধের বিকাশে মুয়াল্লিম-মুয়াল্লিমাদের দায়িত্ব আরও বেড়েছে।
সম্মেলনে কুরআন শিক্ষার কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করা, সহিহ তিলাওয়াতের চর্চা বাড়ানো, শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে কুরআনের শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, সম্মেলনটি মুয়াল্লিম-মুয়াল্লিমাদের মধ্যে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়, দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি এবং কুরআন শিক্ষার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
পবিত্র কুরআনের শিক্ষা বিস্তার, শুদ্ধ তিলাওয়াতের প্রসার এবং নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন আদর্শ সমাজ গঠনে মুয়াল্লিম-মুয়াল্লিমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা আরও বেগবান হোক—এমন প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে সম্মেলনটি শেষ হয়।






