চা পাতা চুরিতে বাঁধা দেয়ায় হামলায় আহত পাহারাদার; চা বাগানের ক্ষুব্দ শ্রমিকদের প্রতিবাদ সভা
মাহিদুল ইসলাম
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি॥
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর এর ফাঁড়ি দেওছড়া চা বাগানের টিলা থেকে কাঁচা চা পাতা চুরি করার সময় বাঁধা দেয়ায় চুর চক্রের হামলায় চা বাগানের পাহারাদার গুরুতর আহত হন। আহত পাহারাদার রামরাজ গৌড়কে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এঘটনায় ক্ষুব্ধ চা শ্রমিকরা চুর ও হামলাকারীকে গ্রেফতারের দাবিতে সোমবার চা বাগানে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা করেছেন। সোমবার ভোর রাতে দেওছড়া চা বাগানে এঘটনা ঘটে।
জানা যায়, সোমবার ভোরে পার্শ্ববর্তী বস্তির লোকমান মিয়া, তাহির মিয়া, সালমান মিয়াসহ কতিপয় চা পাতা চোর চক্র দেশিয় অস্ত্র নিয়ে দেওছড়া বাগানে চা পাতা তুলে কয়েকটি বস্তা ভর্তি করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বাগানের পাহারাদার তাদের বাঁধা দিলে চোর দল দেশিয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করলে পাহারাদার রামরাজ গৌড় রাজু (৪৫) গুরুতর আহত হন। আহত রামরাজকে ক্যামেলিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
খবর চা বাগানে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্দ চা শ্রমিকরা অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে সোমবার সকাল থেকে দেওছড়া চা বাগানে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা করেন।
দেওছড়া কালিমন্দির সংলগ্ন মাঠে বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি শংকর রবিদাসের সভাপতিত্বে ও লছমি মাদ্রাজির পরিচালনায় প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন শমশেরনগর চা বাগান ব্যবস্থাপক কামরুল জামান, ইউপি সদস্য ইয়াকুব মিয়া, মোহনলাল রবিদাস, নমিতা সিং, বাগান পঞ্চায়েত সম্পাদক লক্ষ্মীনারায়ন রবিদাস, দিলিপ নাইডু প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, চা পাতা চুর চক্র ও হামলাকারীর বিরুদ্ধে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও চেয়ারম্যান মেম্বারদের নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে চা বাগান দিয়ে বস্তির রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে হামলাকারী ও চোর চক্রের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ইউপি সদস্য ইয়াকুব মিয়াসহ স্থানীয় চা শ্রমিকরা বলেন, দেওছড়া চা বাগানের বিভিন্ন সেকশনের টিলা থেকে পার্শ্ববর্তী বস্তির কতিপয় চোর চক্র অবৈধভাবে বাগানে প্রবেশ করে কাঁচা চা পাতা কেটে নিয়ে যায়। ফলে চা বাগানের নারী শ্রমিকরা পাতি উত্তোলনের সময় টিলায় গিয়ে চা গাছে পাতি না পেয়ে ফিরে আসেন। ফলে নারীরা নিরিখ পুরো করতে পারেন না। এতে চা শিল্প ও শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
এ ব্যাপারে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রুহুল আমিন সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় চা বাগান কর্তৃপক্ষ থেকে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঘটনার পর পরই আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। আহত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।