দুর্গাপূজা ঘিরে নোয়াখালী'র কোম্পানীগঞ্জে নিরাপত্তা জোরদারসহ পৌরসভা জামায়াত আমীরের ১৪ দফা দাবি
মোহাম্মদ উল্যা
নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি॥
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপনের লক্ষ্যে নিম্নোক্ত ১৪ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরা হলো—
১. প্রতিটি পূজামণ্ডপে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ:
প্রতিটি পূজামণ্ডপে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ, নিয়মিত পাহারা এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
২. ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িঘরের নিরাপত্তা জোরদার:
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িঘর এবং বসতিপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ও নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে।
৩. গুজব, উসকানি ও সাম্প্রদায়িক বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ:
কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে গুজব, ভুল তথ্য কিংবা উসকানির মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে, সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর নজরদারি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
৪. পূজামণ্ডপে যাতায়াতের সড়ক সংস্কার:
পূজামণ্ডপে যাতায়াতের অনুপযোগী সড়কগুলো দ্রুত মেরামত করতে হবে। বিশেষ করে কলেজপাড়ার সড়কটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৫. সরকারি বরাদ্দ ও মানসম্মত চাল নিশ্চিতকরণ:
প্রতিটি পূজামণ্ডপের জন্য নির্ধারিত সরকারি বরাদ্দ, মানসম্মত চাল ও অন্যান্য সহায়তা যথাযথভাবে এবং সময়মতো প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।
৬. মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম:
পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় মশা নিধনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।
৭. স্বেচ্ছাসেবকদের পরিচয় নিশ্চিতকরণ:
প্রতিটি পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালনকারী স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য নির্দিষ্ট পোশাক, পরিচয়পত্র অথবা সহজে শনাক্তযোগ্য পরিচিতিচিহ্নের ব্যবস্থা করতে হবে।
৮. নিরাপদ বিদ্যুৎ সংযোগ ও বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা:
সব পূজামণ্ডপে নিরাপদ বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী জেনারেটর বা বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা রাখতে হবে, যাতে বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা ও উৎসবের কার্যক্রমে বিঘ্ন এড়ানো যায়।
৯. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত মোতায়েন:
উৎসবের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন এবং নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা করতে হবে।
১০. গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন:
গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং সেগুলোর কার্যকর পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।
১১. কিশোর গ্যাং ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ:
কিশোর গ্যাং, মাদকাসক্ত, অপরাধী ও যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের অনাকাঙ্ক্ষিত তৎপরতা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে মণ্ডপ এলাকায় নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে হবে।
১২. রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মণ্ডপ পরিদর্শনে সমন্বিত রুটিন:
রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময়সূচি ও রুট সমন্বয় করে একটি সুশৃঙ্খল রুটিন তৈরি করতে হবে, যাতে অতিরিক্ত ভিড়, যানজট কিংবা নিরাপত্তাজনিত সমস্যা সৃষ্টি না হয়।
১৩. নামাজ ও পূজার সময়সূচির মধ্যে সমন্বয়:
নামাজের সময় এবং পূজার বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সময়সূচি পারস্পরিক আলোচনা ও সহযোগিতার মাধ্যমে সমন্বয় করতে হবে, যাতে সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় এবং সম্প্রীতি বজায় থাকে।
১৪. সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অংশগ্রহণে সমন্বিত বৈঠক:
পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটি, উপজেলা ও পৌর প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে একটি সমন্বিত বৈঠকের আয়োজন করতে হবে। বৈঠকে নিরাপত্তা পরিকল্পনা, দায়িত্ব বণ্টন, জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা ও সার্বিক করণীয় নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে হবে।
আমাদের প্রত্যাশা:
বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে পালনের অধিকার রয়েছে। তাই দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের গুজব, উসকানি, অপ্রীতিকর ঘটনা কিংবা বিশৃঙ্খলা যেন সৃষ্টি না হয়, সে জন্য কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আগাম প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।
আমরা চাই, কোম্পানীগঞ্জে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হোক। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট থাকুক, সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় হোক।