থানা উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি যুবদল নেতার
তিমির বনিক,
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে থানা উড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। গত ৪ অক্টোবর মোবাইল ফোনে এই হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ সংক্রান্ত একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
অডিও ক্লিপে সিন্দুরখান এলাকার এক ব্যক্তিকে শ্রীমঙ্গল থানার এসআই সরাফত আলীকে হুমকি দিতে শোনা যায়। ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আপনি সিন্দুরখান আসলে ভালো হইবো, আপনাকে আমরা সবাই দেখমু, আইলে আপনাকে দেখাইমু। আপনি নাকি সিন্দুরখানের ডন হইছেন, ডন। আপনি তো মৌমাছির ছাকে হাত দিছেন, আপনি তো প্রচুর টাকা বানাইছেন। মানুষরে ধরে ধরে টাকা নিচ্ছেন।’
অডিওতে ওই ব্যক্তিকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘আপনি নিজেকে মস্তান মনে করেন। আপনার সঙ্গে যাদের লিংক আছে, টাইম আছে নি আমার ধারে। তোমার এখনও ভাষা রইছে আওয়ামী লীগের-বিএনপির ভাষা এখনো বুঝছেন না—বিএনপি কী জিনিস। আপনি আজকে ফোন ধরিয়েন—আজকে আপনাকে বদলি না করলে আজকে থানা উড়বো, আজকে। কালকে আপনারে পাইছি না—আজকে থানা উড়বো—আইতেছি। আজকে আপনারে না পাইলে যদি বিচার না হয়, আপনারে যে কই বিদায় করবো, ইষ্টিশন ছাড়া।’
হুমকি দেওয়া ব্যক্তি শ্রীমঙ্গল সদর উপজেলার সিন্দুরখাননি ইউয়নের স্থানীয় যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য দেলওয়ার হোসেন বলে জানা গেছে।
গতকাল শনিবার রাতে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নাগরিক পরিষদের পক্ষে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সংগঠনটির সমন্বয়ক মোসাব্বির আল মাসুদ দাবি করেন, থানা উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া ব্যক্তি যুবদল নেতা দেলওয়ার হোসেন।
মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে সোচ্চার মোসাব্বির আল মাসুদ জানান, উপজেলার সীমান্তবর্তী সিন্দুরখান ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ও এলাকা দিয়ে দেশে মাদক ও অবৈধ ভারতীয় মালামাল প্রবেশ করছে। এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় চেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ১১৩ জন মাদক কারবারির একটি তালিকা তৈরি করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানালেও কোনো লাভ হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
মোসাব্বির আল মাসুদ আরও দাবি করেন, ওই এলাকায় মাদকের বিস্তারের সঙ্গে দেলওয়ারের থানা পুলিশকে দেখে নেওয়ার হুমকির যোগসূত্র রয়েছে। বিষয়টিকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, একজন মানুষ কোন পর্যায়ে গেলে থানা উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতে পারেন, তা ভাবিয়ে তুলেছে। এতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায় গিয়ে ঠেকবে? পুলিশ কীভাবে নির্ভয়ে মাদকবিরোধী অভিযান চালাবে এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে?
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে যুবদল নেতা দেলওয়ার হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমরা থানায় বসে ওসি সাহেবের মাধ্যমে সমাধান করেছি। সেখানে মশিউর রহমান রিপন, সিন্দুরখান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইয়াসির আরাফাত রবিন ছিলেন। তাঁরা সবাই মিলে এটা শেষ করে দিয়েছেন।’
থানা উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া ঠিক হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে দেলওয়ার বলেন, ‘না, এটা বলা আমার উচিত হয়নি।’
একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘গত কয়েক দিন আগে এলাকার মারুফ নামে এক ভাইকে এসআই সরাফত মারপিট করে গেছেন। অথচ মারুফ মাদক ব্যবসায়ার সাথে জড়িত ছিলেন না। এই ঘটনায় আমি এসআই সরাফতকে ফোন দিয়েছিলাম।’
এ বিষয়ে সিন্দুরখান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াসির আরাফাত রবিন বলেন, গত রোববার এ নিয়ে তাকে থানায় ডেকে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে গিয়ে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন।
মোসাব্বির আল মাসুদের তৈরি করা ১১৩ জন মাদক কারবারির তালিকা প্রসঙ্গে রবিন বলেন, ‘এটা দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেখবে। তা ছাড়া এই তালিকা কীসের ভিত্তিতে প্রণয়ন করা হয়েছে, আদৌ এ ধরনের স্পর্শকাতর তালিকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছাড়া কেউ করতে পারে কি না, তা আমার জানা নেই।’
এ বিষয়ে জানতে এসআই সরাফত আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে আইনগত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে তিনি এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছেন।