ট্রাম্প-শি বৈঠক: বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি আরও দুই মাস বাড়ল যুক্তরাষ্ট্র-চীনের
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি॥
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠককে ঘিরে ওয়াশিংটনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। একই সময়ে দুই দেশ তাদের চলমান বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
বুধবার ওয়াশিংটনে পৌঁছান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। প্রায় তিন বছর পর যুক্তরাষ্ট্র সফরে এসে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে দুই নেতার বৈঠকে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, তাইওয়ান, বিরল খনিজ এবং ইরানসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যু আলোচনায় আসার কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, দুই দেশ বিদ্যমান বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি আরও দুই মাস বাড়াতে সম্মত হয়েছে। এর ফলে পূর্বনির্ধারিত ১০ নভেম্বরের পরিবর্তে যুদ্ধবিরতির নতুন সময়সীমা জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ছে।
এই যুদ্ধবিরতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পরস্পরের ওপর আরোপিত কিছু শুল্ক ও বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সুযোগ পাচ্ছে। তবে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য সম্পর্কের বড় বিরোধগুলো এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি।
ট্রাম্প-শি বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র চীনের কাছ থেকে কৃষিপণ্য কেনা, বিরল খনিজ ও গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের সরবরাহ এবং প্রযুক্তি বাণিজ্য নিয়ে আরও স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি চাইতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট আলোচনার সঙ্গে পরিচিত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে চীন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে উন্নত প্রযুক্তি ও অত্যাধুনিক চিপ রপ্তানিতে বিধিনিষেধ শিথিল করার বিষয়টি তুলতে পারে। তাইওয়ান ইস্যুও দুই দেশের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির নিরাপত্তা, বিনিয়োগ, শিল্পপণ্য এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা কমলেও কৌশলগত প্রতিযোগিতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, সামরিক নিরাপত্তা, তাইওয়ান এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
এদিকে ইরান সংকটও ট্রাম্প-শি বৈঠকের আলোচনায় আসতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র চীনের ওপর ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ও তেহরানের ওপর বেইজিংয়ের প্রভাব ব্যবহার করে কূটনৈতিক সমাধানে ভূমিকা রাখার জন্য চাপ দিতে পারে বলে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এবারের বৈঠক থেকে বড় কোনো বাণিজ্য চুক্তি হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। আপাতত দুই দেশের জন্য সবচেয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি হলো বিদ্যমান বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি আরও কিছু সময় ধরে রাখা এবং বৃহত্তর অর্থনৈতিক সমঝোতার জন্য আলোচনা চালিয়ে যাওয়া।
ট্রাম্প ও শির এই বৈঠক বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির ভবিষ্যৎ বাণিজ্য সম্পর্কের পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজার, প্রযুক্তি সরবরাহব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।